কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ডাকাতরা ছয়জন কৃষককে অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপহৃতদের মধ্যে একজনকে হত্যা করেছে তারা। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের রোহিঙ্গা ক্যাম্প (২২ নম্বর) উনছিপ্রাং পুটিবনিয়ার পশ্চিমে ছনখোলা থেকে ওই কৃষকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি মৌলভী আবুল কাছিমের ছেলে আকতারুল্লাহর (২৪) বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

টেকনাফ থানার পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের দেয়া তথ্যে পাহাড়ী এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কৌশলে অপহৃত তিনজন ফিরে এলেও বাকি দুই জনকে মুক্তিপণ ছাড়া মুক্তি দেয়নি অভিযুক্তরা। তাদের মুক্তির জন্য ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। অন্যথায় তাদেরও মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে রোহিঙ্গা হাকিম ডাকাতের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা।

স্থানীয়রা জানায়, নিহত আক্তার পেশায় একজন কৃষক। সে ফকিরের ঘোনা এলাকায় শসা ক্ষেত দেখতে গিয়েই অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা ডাকাত দলের হাতে অপহৃত হয়।

জানা যায়, ২৯ এপ্রিল দিবাগত রাতে উপজেলার হোয়াইক্যং মিনা বাজার শামসু হ্যাডম্যানের ঘোনায় বিশেষ টং তৈরি করে বন্য হাতির তান্ডব থেকে ক্ষেত ও ধান রক্ষার জন্য ছয়জন কৃষক ধানক্ষেতে পাহারা দিচ্ছিল। এমন সময় সশস্ত্র একদল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী তাদের অপহরণ করে। অপহৃতরা হলেন- পশ্চিম মিনা বাজার ঘোনাপাড়া এলাকার কৃষক আবুল হাশেম এবং তার দুই ছেলে জামাল ও রিয়াজুদ্দিন, একই এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে শাহেদ (২৫), মৌলভী আবুল কাছিমের ছেলে আকতারুল্লাহ (২৪) ও মৃত মোহাম্মদ কাশেমের ছেলে ইদ্রিস। সেখান থেকে চাল ও অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর বিনিময়ে হাশেমসহ তার দুই ছেলেকে ছেড়ে দেড়।

অপহৃত শাহেদের মোবাইল থেকে তার পরিবারের নিকট মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অন্যথায় তাদের মেরে ফেলার হুমকি দেন। এরই প্রেক্ষিতে শুক্রবার ভোরে ওই কৃষককে মাথায় গুলি করে হত্যা করে ফেলে রেখে পরিবার পরিজনকে খবর দেয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।

এ ঘটনার খবর পেয়ে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গহীন পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখে। একটি পাহাড়ে হাকিম ডাকাতের আস্তানার সন্ধান পেলেও তাদের পাওয়া যায়নি। অপহৃতদের উদ্ধার না হওয়া ও সশস্ত্র ডাকাতদের গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানা যায়।

স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা কুখ্যাত হাকিম ডাকাতের নেতৃত্বে তাদের অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণের ঘটনা এই প্রথম নয়, এর আগেও স্কুল শিক্ষার্থীসহ নানা পেশাজীবীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ নিয়েছে হাকিম ডাকাত। অনেককেই নির্মমভাবে হত্যাও করা হয়েছে। তাকে ধরতে ইতোমধ্যে হেলিকপ্টারযোগে অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী জানান, পাহাড়ে অবস্থানকারী সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা পাহাড়ি জনপদের কৃষক ও বাসিন্দাদের জীবনের জন্য চরম হুমকি। অবিলম্বে এলাকাবাসীকে এসব থেকে রক্ষার্থে আইন শৃংখলা বাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর দাবি জানান তিনি।

এসআই মশিউর রহমার জানান, প্রধান সড়ক থেকে চার কিলোমিটার পাহাড়ে ঢুকে ছয়টি টিম করে অভিযান চালানো হচ্ছে। একটি গহীন পাহাড়ে ডাকাতদের কিছু আলামত পাওয়া গেছে। সেইখানে জবাইকৃত গরুর মাংস, রান্নার উপকরণ ও মানুষ আটকানোর কিছু কৌশলী যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণকারীদের গ্রেফতারের পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে কৃষক আকতারুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। শুক্রবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় টেকনাফ মডেল থানার ওসি  প্রদিপ কুমার দাশ এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমুলক বিচারের আশ্বাস দিয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করেন।