জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, ‘মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: এর জীবনই মানবতার জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। বিশ্বনবী সা: এর আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই মানবতার প্রকৃত মুক্তি নিহিত। কোরআন ও সুন্নাহ থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণেই আজ মুসলিম উম্মাহ নানা সঙ্কটে বিপর্যস্ত।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াত কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে কাজ করছে। বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় জামায়াতের কার্যক্রমে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। তরুণ প্রজন্মকে সীরাতের শিক্ষা ধারণ করে নৈতিকতা ও মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর জিন্দাবাজারস্থ একটি হোটেলের হলরুমে সিলেট মহানগর কোতোয়ালী পূর্ব থানা জামায়াত আয়োজিত সীরাত সম্মেলন ও কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওই কথা বলেন।

কোতোয়ালী পূর্ব থানা আমির রফিকুল ইসলাম মজুমদারের সভাপতিত্বে ও সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জুনেদ আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: ফয়জুল হক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালী পূর্ব থানার নায়েবে আমির নজরুল ইসলাম সোয়েব, সহকারী সেক্রেটারি সিদ্দিক আহমদ, জামায়াত নেতা এখলাছুর রহমান, আব্দুর মুত্তালিব, আব্দুস শহিদ জোয়ারদার, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা গিয়াস উদ্দিন ও পেশাজীবী ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা আব্দুর রশিদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে দুই শতাধিক প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেরা ১০ বিজয়ীর হাতে নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘মহানবী সা: ছিলেন আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক, সমাজসংস্কারক ও মানবতার পথপ্রদর্শক। মদিনায় নবীজি সা: প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, সাম্য ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল। কল্যাণ রাষ্ট্র পরিচালনায় তার জীবন ও কর্ম আজও বিশ্ববাসীর জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত।’

মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে প্রফেসর ড. মো: ফয়জুল হক বলেন, ‘একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হচ্ছে ইনসাফ, জবাবদিহিতা ও মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা। বৈষম্য, দুর্নীতি ও অন্যায়-অবিচারমুক্ত মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নবীজি সা: এর আদর্শ বাস্তবায়ন করতে পারলেই শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।‘