কর্মহীন হকারদের রেশন কার্ড ও ঈদের আগে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়করে তারা। বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হাশিম কবিরের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দীনের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তৃতা করেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সেকান্দার হায়াৎ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী, সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, শহীদ খান, শহীদুল ইসলাম প্রমুখ। 

বক্তারা বলেন, চলমান মহামারি পরিস্থিতিতে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের সীমাহীন অভাব-অনটন সত্ত্বেও তাদের জন্য কোনো উপযুক্ত সরকারি উদ্যোগ নেই। নিম্নআয়ের মানুষের জীবন বাঁচাতে অবিলম্বে হকারসহ অতিক্ষুদ্র পুঁজির আত্মনিয়োজিতদের জন্য আর্থিক বরাদ্দ এবং সাপ্তাহিক রেশন চালু করতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, দশ লাখ মানুষ হকারি পেশায় নিয়োজিত হয়ে দেশের বিপণন বাণিজ্যে অসামান্য অর্থনৈতিক অবদান রেখে চলেছে। কিন্তু হকারদের এই অবদান কখনই স্বীকৃতি পায়নি। তারা আর্থিক প্রণোদনা পাওয়া দূরের কথা দুর্যোগ-দুর্দিনে কখনো রাষ্ট্রীয় সহায়তাও পায় না। তারা বলেন, চলমান মহামারি পরিস্থিতিতে কর্মহীন অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে হকাররা মানবেতর জীবন যাপন করছে। এই অবস্থায় আহার যোগাতে গিয়ে তারা নিজেদের অতি সামান্য পুঁজি নিঃশেষ করে ফেলেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় করোনা পরিস্থিতি আরো খারাপ দিকে যাচ্ছে এবং কর্মহীন অবস্থা প্রলম্বিত হবে। নিজ চেষ্টায় বেঁচে থেকে জিডিপিতে অবদান রাখা হকাররা আজ সর্বশান্ত হতে চলেছে। নেতৃবৃন্দ এই অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে হকারদের জীবন বাঁচাতে আর্থিক বরাদ্দ এবং সাপ্তাহিক রেশনিং চালুর দাবি জানান।

বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, আসন্ন ঈদের আগে কর্মহীন হকারদের নগদ আর্থিক সহায়তা দিতে হবে এবং হকারদের নামে রেশন কার্ড বরাদ্দ করতে হবে। মহামারীর আঘাত এবং আসন্ন বৈশ্বিক মন্দা পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি বাঁচাতে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনার কোনো বিকল্প নেই। সরকার সবসময়ই বড় গোষ্ঠীর জন্য নানান আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করলেও কখনই অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি শ্রমিক, গ্রামীণ মজুর, হকারসহ শ্রমজীবী মানুষদের জন্য কিছুই করে না। নেতৃবৃন্দ লকডাউন শেষে এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হকারদের জন্য বিনা সুদে ঋণ সুবিধা ঘোষণার দাবি জানান।