৬দিন আগে ফুলগাজী উপজেলার দরবারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বরইয়া গ্রামের কিশোরী করোনায় আক্রান্ত হয়। মেয়েকে সেবা করতে গিয়ে মাও এখন আক্রান্ত। গতকাল মঙ্গলবার রাতে তার করোনা পজেটিভ বলে জানানো হয়। তিনি উপজেলা পর্যায়ের একটি সরকারি দপ্তরের অফিস সহায়ক।
একই চিত্র দাগনভূঞা উপজেলায়ও। সেখান কারনার জনপ্রতিনিধি জায়লস্কর ইউনিয়নের নুরুল্লাপুর গ্রামে হোমআইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সংস্পর্শে আসায় তার শশুরের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।
ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্যকর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হোসেন জানান, উপজেলায় ৬০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আক্রান্ত কিশোরির পরিবারসহ সংস্পর্শে আসায় ৮জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এরমধ্যে গতকাল তার মায়ের নমুনা পজেটিভ আসে।
সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাদ হোসেন নয়াদিগন্তকে জানান, মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের পরীক্ষাগার থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে আক্রান্ত কিশোরীর মা এবং নারী জনপ্রতিনিধির শশুর করোনা ‘পজেটিভ’ বলে নিশ্চিত করা হয়। তাদের ৪ জনকে বাসায় হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।করোনার বিস্তার প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়া ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।
গত ১৬ এপ্রিল ঢাকা ফেরত ছাগলনাইয়ার এক যুবক আক্রান্তের মধ্যদিয়ে জেলায় প্রথম করোনারোগি শনাক্ত হয়।এর ক’দিন পরই সোনাগাজীতে আক্রান্ত হন স্থানীয় একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ল্যাব টেকনেশিয়ান। তাদের দুইজনকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল ট্রমা সেন্টারে আইসোলেশনে আনাহ য়। সুস্থ হয়ে ওঠায় গত বুধবারদু ইজনকেই বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।তাদের সংস্পর্শে আসা পরিবারের সদস্য ও স্বজন কারোই করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি।
গত ২মে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ১৩ বছর বয়সের এক কিশোরী ফেনী জেনারেলহাস পাতালে ভর্তি হয়। তার বাড়ি মিরসরাই উপজেলায়। ৪ মে নমুনা সংগ্রহ করা হলে ৬মে বুধবার দুপুরে তার শরীরে করোনাভাইরাস পজেটিভ আসে।তাকে আশংকা জনক অবস্থায় ওই দিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
গত ২১ এপ্রিল দাগনভূঞা উপজেলা উপজেলা পর্যায়ের এক সরকারি কর্মকর্তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়।২৯ এপ্রিল রাতে তার নমুনা প্রতিবেদনে পজেটিভ হয়।
একই দিন ঢাকা ফেরত দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর আলামপুর গ্রামের এক নারীর শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। তার স্বামী ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিভাগের লোকজন বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় মোট ১৯জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৮জন, দাগনভূঞা উপজেলায় ৫জন, ফুলগাজী উপজেলায় ২জন, ছাগলনাইয়া উপজেলায় ২জন, সোনাগাজী উপজেলায় ২জন।৩ জন সুস্থ হয়ে ছাড় পত্র নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন।
জেলায় আজ বুধবার ৬৭জনসহ গত ৪৪দিনে এপর্যন্ত ৮শ ৮৯জনের করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়।চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অবট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৫শ ১৭ জনের নমুনা প্রতিবেদন আসে।



