জীবনের অধিকাংশ সময় অসংখ্য মিথ্যা মামলা মোকাবেলা করে অবশেষে কাউকে না জানিয়ে এক ধরণের অভিমান করে চলেই গেলেন টঙ্গীর একজন মজলুম আলমাছ খান (৭৫)। শনিবার সকাল সাড়ে ৬টায় তার স্থানীয় হোসেন মার্কেটের বাড়িতে প্রচণ্ড বুকব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হলে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৫ ছেলে, ২ মেয়েসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

নিজের বাস্তু-ভিটের জমি সংক্রান্ত একটি দেওয়ানি মামলাকে কেন্দ্র করে জীবনে বহু হামলা ও মিথ্যা মামলা মোকাবেলা করতে হয়েছে তাকে। একাধিকবার তার বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট ও সপরিবারে মার খেয়ে রক্তাক্ত জখম হয়েছেন, আবার উল্টো মিথ্যা মামলায় আসামীও হয়েছেন। মৃত্যুকালেও চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগের মামলার হুলিয়া নিয়ে তাকে কবরে যেতে হয়েছে। কখন বাড়িতে হামলা ও জবর দখলের চেষ্টা হয় সব সময় এমন আতঙ্কে দিন কাটতো আলমাছ ও তার পরিবারের। সারা জীবন বহু চেষ্টা করে ন্যায় বিচার না পেয়ে যেন সকলের সাথে অভিমান করে চলে গেলেন বৃদ্ধ আলমাছ খান।

আলমাছ খানের বড় ছেলে জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, আমরা কখনো ন্যায় বিচার পাইনি। সারাজীবন আমার বাবা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও নিজের অধিকার বা স্বত্ত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াই করে গেছেন। এ কারণে আমার বাবা ও আমাদেরকে বহুবার নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। আমরা বহুবার মার খেয়েছি, হামলা, ভাংচুরের শিকার হয়েছি। কিন্তু কোনো বিচার পাইনি। বরং আমাদের বিরুদ্ধে পাল্টা মিথ্যা মামলায় আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়েছে এবং প্রতিবারই আমাদের সত্য মামলাগুলোর ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। নিম্ম আদালতে বিভিন্নভাবে আমাদেরকে দেওয়ানি মামলায় ন্যায় বিচার থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। আমার বাবা সর্বশেষ উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন এবং উচ্চ আদালতে ন্যায় বিচার পাওয়ার ব্যাপারে তিনি খুবই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। কিন্তু উচ্চ আদালতে জমি সংক্রান্তে আলোচিত দেওয়ানি মোকদ্দমাটি বিচারাধীন রেখে এবং আমাদেরকে অনিশ্চিত ভবিষ্যত জীবনে ফেলে রেখে তিনি চলে গেলেন।