করোনাভাইরাসের প্রার্দূভাবের শুরু থেকেই নানা প্রশংসনীয় কাজ করে পাংশা থানা এলাকার মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছেন পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আহসান উল্লাহ।
উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সেনগ্রামে প্রথম করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া রোগীর দাফনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন। এর পর থেকে একে একে করে চলেছেন নিজ গতিতে নানা প্রশংসনীয় কাজ। মানসিক প্রতিবন্ধী অপরিচিত এক বৃদ্ধা নারীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ১৬ দিন চিকিৎসা নেয়ার পর তিনি গেলে হাসপাতাল থেকে নিজ দায়িত্বে লাশ বুঝে নিয়ে তার দাফন করেন ওসি আহসান উল্লাহ।
এর পর থেকে পাংশাবাসী তাকে মানবতার ফেরিওয়ালা, মানবিক ওসি বিভিন্ন নামে ডাকছেন।
শনিবার রাত ৯টায় রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের সমশপুর গ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মারা যাওয়া ব্যক্তির লাশ দাফন করেন ওসি আহসান উল্লাহ।
করোনা আক্রান্ত মৃত ব্যাক্তির নাম আবু ইউনুস (৪৩)। তার বাবা নাম মোঃ রমজান শেখ। মৃত ইউনুস করোনার হট স্পট নারায়ণগঞ্জের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। ২ জুন করোনা আক্রান্ত হয়ে তিনি ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল তার মৃত্যু হয়। পরে সেখান থেকে তার লাশ গ্রামের বাড়ি পাঠানো হয় । কিন্তু ওই মৃত ব্যাক্তির লাশ তার কোনো স্বজন অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামায়নি- এমন সংবাদ পেয়ে পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আহসান উল্লাহ আটজন পুলিশ সদস্য নিয়ে সেখানে গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার লাশ নামিয়ে দাফন করেন।
এ সময় মৃত ব্যক্তির বাবা মোঃ রমজান শেখ, পাংশা উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামাল আল মামুনসহ ১২-১৩ জন উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা বলেন, এমন মানবিক ওসি আমরা পাংশাতে এর আগে আর দেখিনি।
পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আহসান উল্লাহ বলেন, মানবিক কারণেই আমরা তার দাফন কাজে অংশ নিয়েছি।



