জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে রোজিনা খাতুন (১৮) নামে এ গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোরে আক্কেলপুর উপজেলার গুডুম্বা পূর্বপাড়া গ্রামে এই লাশ পাওয়া যায়।
নিহত রোজিনা আক্কেলপুর উপজেলার গুডুম্বা পূর্বপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেনের মেয়ে ও হরিসারা গ্রামের মেহেদী হাসানের স্ত্রী।
ঘটনার পর থেকে রোজিনার স্বামী মেহেদী হাসান পলাতক রয়েছেন। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন হত্যা করতে পারে বলে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে নিহত রোজিনার পেটে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
রোজিনার পরিবার জানায়, গুডুম্বা পূর্বপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেনের তৃতীয় মেয়ে রোজিনা খাতুনের সাথে একই উপজেলার হড়িসারা দক্ষিণ পাড়া গ্রামের সেকেন্দার আলীর বিবাহিত ছেলে মেহেদী হাসানের সাথে প্রেমের সম্পর্কের পর গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রোজিনা বাবার বাড়িতেই থাকতেন। শুক্রবার মধ্যরাতে একটি গাড়ির শব্দ পায় তারা। এরপর থেকে রোজিনা নিখোঁজ ছিল। পরে ভোরে বাড়ির পাশে লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়।
রোজিনার বাবা মকবুল হোসেন জানান, ‘মেহেদীর সাথে বিয়ের পর থেকে মেয়ে আমার বাড়িতেই থাকতো। সন্ধ্যায় মেয়ের জামাই বাড়িতে এসে বলে রোজিনা কোথায়? তখন আমি বলি, রোজিনা তো সকালে দিয়ল একটি সংস্থাতে টাকা তুলতে গেছে। আর জামাই বলে, রোজিনা তো আক্কেলপুরে গেছে, আর এই আসাই আমার শেষ আসা আপনাদের বাড়িতে। শনিবারে তালাকের কাগজ আপনাদের বাড়িতে পৌঁছে যাবে, এই বলে জামাই চলে যায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘এর পর রাতে সবাই আমরা ঘুমিয়ে যাই। রোজিনা তার ছোট ভাইকে নিয়ে আলাদা ঘরে ঘুমায়। রাত তিনটার দিকে বাড়ির পাশে রাস্তায় একটি গাড়ি এসে দাঁড়ায়। এর পর রোজিনাকে ওই গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায়। পরে রোজিনার মা আর আমি বাড়ি- ঘরে খুঁজে দেখি মেয়ে বাড়িতে নেই। তখন ভাবলাম, রোজিনাকে তাহলে ওই গাড়িতে করেই নিয়ে গেছে। ভোরে আমাদের বাড়ির পাশে রাস্তার ধারে একটি পায়খানার ধারে রোজিনাকে পড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পায় আমার চাচাতো ভাই লেজন। খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে দেখি রোজিনাকে হত্যা করে সেখানে ফেলে রেখে চলে গেছে। আমার জামাই মেয়েকে হত্যা করে এখানে ফেলে গেছে আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই।’
আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু ওবায়েদ বলেন, রোজিনা মেহেদী হাসানের দ্বিতীয় স্ত্রী। মেহেদীর প্রথম স্ত্রীসহ সন্তান আছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে অন্য কোথাও হত্যা করে তার বাবার বাড়ির পাশে ফেলে চলে গেছে। রোজিনার পেটে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।



