কক্সবাজার জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। জেলায় এখন করোনা আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা দুই হাজার ৪৭ জন। এর মধ্যে রোহিঙ্গার সংখ্যা ৪৫ জন। অন্যদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে চার রোহিঙ্গাসহ মোট ৩৫ জন। আইসোলেশন হাসপাতাল ও হোম আইসোলেশনে চিকিৎসা নিয়ে এ পর্যন্ত করোনামুক্ত হয়েছেন ৬৯৮ জন। এ অবস্থায় জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় জেলা সদর হাসপাতালে ২০ শয্যার আইসিইউ ও এইচডিইউ সেন্টার প্রস্তুত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়েছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট। কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা: মাহবুবুর রহমান এসব তথ্য জানিয়েছেন।
ডা: মাহবুবুর রহমান আরো জানান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের নেতৃত্বে ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ইউএনএইচসিআরের ৩৫ কোটি টাকার বেশি আর্থিক অনুদানে আধুনিক এ চিকিৎসাসেবার কার্যক্রম চালু হয়েছে। হাসপাতালে চালু হওয়া এ দুইটি ইউনিটের নিযুক্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য আর্থিক ব্যয়ভারও বহন করবে ইউএনএইচসিআর। গত শনিবার বিকালে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সভা কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
এর আগে কক্সবাজারে করোনা আক্রান্তদের জন্য বেশ কয়েকটি আইসোলেশন সেন্টার থাকলেও সেগুলোতে আইসিইউ বা ভেন্টিলেটরের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ফলে করোনা আক্রান্ত সংকটাপন্ন রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ছুটতে হতো চট্টগ্রাম বা ঢাকায়। এখন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসার আধুনিক সেবার কার্যক্রম চালু হওয়ায় করোনাসহ অন্য সংকটাপন্ন রোগীরা নিজ জেলাতেই সেবা পাবে বলে জানান হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক। হসপিটালটির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল জানান, নতুন এ ব্যবস্থার ফলে সাধারণ মানুষ যেমন উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে, তেমনি কক্সবাজারে বেড়াতে আসা দেশী-বিদেশী পর্যটক ও এখানে কর্মরত দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরাও এ সুযোগ-সুবিধা পাবে। এদিকে জেলা সদর হাসপাতালে ৫০ শয্যা, চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭৫ শয্যা এবং রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭৫ শয্যা আইসোলেশন সেন্টারে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া কক্সবাজার সৈকতে হোটেল সি প্রিন্সেস হোটেলকে ২০০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার হিসাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় ইউএনএইচসিআর-আইওএম আইআরসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা আরো প্রায় ৫০০ শয্যার আইসোলেশন হাসপাতাল প্রস্তুত করেছে। এখানে করোনাক্রান্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও রোহিঙ্গারা চিকিৎসা নিতে পারবে।
টেকনাফে ৬০ শয্যার আইসোলেশন ও ট্রিটমেন্ট সেন্টার চালু : করোনা রোগীদের চিকিৎসায় দেশের সর্বদক্ষিণে কক্সবাজারের টেকনাফে চালু হয়েছে ৬০ শয্যার আইসোলেশন এবং ট্রিটমেন্ট সেন্টার। যেখানে করোনা সন্দেহভাজন বা করোনা আক্রান্তরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে পারবে। ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি সহায়তায় টেকনাফের শ্যামলাপুরে এ আইসোলেশন সেন্টার নির্মিত হয়। এতে ৬০ জনের একটি দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর দল দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা দেবে। রোগীদের জন্য প্রতিটি বেডের সাথে রয়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা, নারী-পুরুষের জন্য আলাদা ওয়ার্ড, তিন বেলা খাবার এবং ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা, করোনা আক্রান্ত প্রসূতি মায়েদের জন্য বিশেষ সেবা ও ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। এছাড়াও সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে এখানে রয়েছে ডব্লিউএইচও নির্দেশনা অনুয়ায়ী জীবাণুমুক্তকরণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার গতকাল সোমবার সকালে আইসোলেশন ও ট্রিটমেন্ট সেন্টারটি উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা: মো: মাহবুবুর রহমান, ক্যাম্প-২৩ ইনচার্জ পুলককান্তি চক্রবর্তী, আইআরসির কান্ট্রি ডিরেক্টর মানীষকুমার আগারওয়াল।



