রাজশাহীর বাগমারায় গ্রাহকদের চাপ প্রয়োগ এবং মামলার ভয় দেখিয়ে কিস্তি আদায় করছে অর্ধশতাধিক এনজিও। এ নিয়ে চরম হয়রানির মধ্যে রয়েছে কর্মহীন গ্রাহকরা। ঋণ আদায়ের বিষয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরেও তা মানছে না এনজিওগুলো।
জানা যায়, করোনায় কর্মহীন সাধারণ গ্রাহকরা চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের পক্ষে ঋণের কিস্তি দেয়া কষ্ট সাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ এনজিওর মাঠকর্মীরা গ্রাহকদের বাড়িবাড়ি গিয়ে চাপ প্রয়োগ করে ও মামলার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত কিস্তি আদায় করছেন।
বাগমারা উপজেলা প্রশাসন নামে ফেসবুক আইডি থেকে জেলা প্রশাসকের বরাত দিয়ে জানানো হয়, এনজিও থেকে গৃহীত ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি পরিশোধে কোনো ঋণ গ্রহীতাকে ৩০ জুন/২০২০ পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধে বাধ্য করা যাবে না।
হামিরকুৎসা ইউনিয়নের মাঝগ্রামের হান্নান রশিদ জানান, তিনি শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির আওতায় ভবানীগঞ্জ শাখা হতে লোন নিয়েছেন। হঠাৎ করেই সংস্থার লোকজন কিস্তির টাকা আদায় করতে তার বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সংস্থার লোকজন তার বাড়িতে অবস্থান করেন। এ সময় তিনি কিস্তি দিতে না পেরে বাড়ি থেকে সরে যান। একই গ্রামের টিপু, আব্দুল জলিল, মদন সরদার, সাইদুর রহমান, আব্দুস সামাদ, রুবেল, নজের আলী, ফজলুর রহমান ও আমিনুল হকসহ অনেক গ্রাহক জানান, ওই এলাকায় শুধু শাপলা এনজিও নয় শতফুল বাংলাদেশ ও ঠ্যাঙ্গামারাসহ বিভিন্ন এনজিও গ্রাহকদের কাছে থেকে কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন।
উপজেলার তালঘরিয়া গ্রামের বাবলুর রহমান জানান, ওয়েভ ফাউন্ডেশন বীরকুৎসা শাখা ও গাঙচিল তাহেরপুর শাখা হতে গ্রাহকদের চাপ দিয়ে কিস্তি আদায় করা হচ্ছে। একই গ্রামের আমিনুল হক জানান, তিনি ব্র্যাক নখোপাড়া শাখা হতে চার লাখ টাকা লোন করেন। কিস্তি ঠিকমতোই পরিশোধ করতেন, কিন্তু করোনার কারণে কিস্তি দেয়া স্থগিত ছিল। গতকাল হঠাৎ করেই ওই এনজিও লোকজন তার ওপর ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করে কিস্তি নিয়েছেন। এ ছাড়া আশা ও গ্রামীণ ব্যাংক আলোকনগর শাখা হতেও গ্রাহকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে কিস্তি আদায় করা হচ্ছে।
এ ছাড়াও নওগাঁ মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিািমটেড নামে এনজিও (সাবাইহাট শাখা) গ্রাহকদের কিস্তি আদায়ে চাপ প্রয়োগ করছেন বলে ভুক্তভোগী ভবানীগঞ্জের মুরগি ব্যবসায়ী বাবলুর রশিদ অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার ভবানীগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা বলেন, করোনার অজুহাতে কিস্তি আদায়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের সব এনজিওকে গ্রাহকদের চাপ দিয়ে কিস্তি আদায় না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। কেউ তা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ আহম্মেদ বলেন, কোনো এনজিও গ্রাহকদের কিস্তি পরিশোধে বাধ্য করতে পারবে না। স্বেচ্ছায় কেউ চাইলে পরিশোধ করতে পারবে। যদি কোনো এনজিও কিস্তি পরিশোধের জন্য গ্রাহকদের চাপ প্রয়োগ করে তাহলে আমাদের কাছে অভিযোগ দিন। আমরা ইতোমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দু’টি এনজিওকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।



