“হামরা ৩ মাস থাকি বেতন পাওছো না, না খায়া দিন কাটেছে। কিন্তুক তাও হামার পাকে কাহো দেখেছে না। না প্রিন্সিপ্যাল না চেয়ারম্যান। বউ বাচ্চা নিয়া কষ্ট করি কোন রকমে বাঁচি আছি।” এভাবেই করোনা কালীন পরিস্থিতিতে মানবেতর জীবন যাপনের বর্ণনা দিলেন নীলফামারীর অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সৈয়দপুর লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী। তার মতো করে অভিযোগের সুরে অন্যান্য কর্মচারীসহ ও শিক্ষকও তুলে ধরেন তাদের দুর্দশার কথা।
তারা আরো জানান, এত সমস্যায় থাকলেও তা বলা যাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও সভাপতিকে। সরাসরি বলতে না পেরে ইঙ্গিতে বলার চেষ্টা করা হলে উল্টা চাকরি যাওয়ার হুমকি পেতে হচ্ছে। যে কারণে শত কষ্টেও মুখ বুঝে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৯০ জন শিক্ষক কর্মচারী।
জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক কর্মচারীরা বিগত মার্চ মাস থেকে কোনো বেতন পাননি। এমপিওভুক্তরা সরকারি অংশের টাকা পেলেও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেয়া অর্থ পায়নি। আর নন-এমপিওরা সব থেকেই বঞ্চিত। তারা দীর্ঘ তিন মাস যাবত বেতন ভাতা না পেয়ে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন। গত ঈদুল ফিতরের আগে কোচিং থেকে প্রাপ্ত অংশের ৬ হাজার টাকা পেয়েছেন মাত্র। বেতন-বোনাস ও বৈশাখী ভাতা তাদের দেয়া হয়নি। এদিকে গত জুন মাসে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রণোদনার শিক্ষকরা ৫ হাজার ও কর্মচারীরা ২ হাজার ৫ শ’ টাকা পেলেও চতুর্থ শ্রেণীর নন-এমপিও কর্মচারীরা কোনো অর্থই পায়নি। ফলে তারা অত্যন্ত মানবেতন জীবন কাটাচ্ছে। সংসারের ব্যায় নির্বাহ করতে গিয়ে তারা ঋনে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন।
তাদের অভিযোগ হলো, প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে বেতনের বিষয়ে বলতে গেলেই বলা হচ্ছে স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের বেতন আদায় সম্ভব হচ্ছে না। তাই প্রতিষ্ঠানের আয় না হওয়ায় তাদের টাকা দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। অথচ নিয়মিতই আদায় করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের বেতন। এমনকি বছরের শুরুতে সেশন চার্জ ও অন্যান্য ফি বাবদ কালেকশনকৃত অর্থ জনবলের জরুরি প্রয়োজনে সহায়তা হিসেবে দেয়া সম্ভব হলেও তা করা হচ্ছে না। পরিস্থিতি নাজুক হওয়ায় কেউ কেউ বাধ্য হয়ে আর্থিক সহযোগিতার কথা জানালে তাদেরকে চাকরি ছেড়ে দেয়ার কথা বলছেন অধ্যক্ষ ও সভাপতি। বেশি চাপাচাপি করা হলে চাকরিচ্যুত করা হবে বলেও হুমকি দেয়াও হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ নজরুল ইসলাম খান কিশোরের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার নিজেরই বেতন ঠিকমত হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ সমস্যা থাকবে না। এসময় কথা প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানে কতজন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমার জানা নেই, তবে আমাদের প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে একটি নন-এমপিও স্কুল এন্ড কলেজ।



