নওগাঁর রাণীনগর-আবাদপুকুর সড়কের হাতিরপুল নামকস্থানে রতনডারি খালের উপর নির্মাণাধীন সেতুটি তুলনামূলক উচ্চতা না হওয়ায় খুব নিচু করে চলছে নির্মান কাজ । ফলে বন্যা আসার আগেই বর্ষার পানিতে সেতুর স্লাব (ছাদ) ছুঁই ছুঁই হয়ে পরাই খাল দিয়ে নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে ওই এলাকার কয়েক গ্রামের দেড় হাজার মৎস্যজীবি চরম বেকায়দায় পড়েছেন।

জানা গেছে, রাণীনগর-আবাদপুকুর সড়কের রাণীনগর সদর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার পূর্ব দিকে রতন ডারি খালের উপর ব্রিটিশ আমলে চুন-সুরকি দিয়ে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ব্রিজটি হাতির পিঠের ন্যায় হওয়ায় হাতিরপুল নামে পরিচিতি পায়। এর পর সড়কের প্রথম পাকাকরণের সময় হাতিরপুল ব্রিজটি মজবুত হওয়ায় তা রেখেই অন্যান্য ব্রিজ নির্মাণ করে স্থানীয় প্রকৌশল অধিদফতরের আওতায় রাণীনগর-আবাদপুকুর ১৪ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ করা হয়। দীর্ঘ দিন পরে সড়কে যান চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং জীবন মান উন্নয়ন ও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে রাণীনগর থেকে সরাসরি ঢাকার সাথে যোগাযোগের জন্য দু’বছর আগে এলজিইডি থেকে রাস্তাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগে হস্তান্তর করা হয়। এর পর গত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে রাণীনগর থেকে আবাদপুকুর হয়ে কালীগঞ্জ পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত ও মজবুত ভাবে পাকাকরণ এবং সড়কে ২৬টি কালভার্ট ও চারটি ব্রিজ নির্মানসহ ১০৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরে টেন্ডার দেয়া হয়। টেন্ডার শেষে ২০১৮ সালের শেষের দিকে ব্রিজ এবং কালভার্ট ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণ কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এর মাঝখানে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সেতু-কালভার্ট নির্মাণ ও সড়ক পাকাকরণের কাজ শেষ করতে পারেনি।

এদিকে সড়কে হাতিরপুল নামকস্থানে রতনডারি খালের উপর সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করলে তুলনামূলকভাবে নিচু হওয়ায় সেতুটি আরো উচুঁ করে নির্মাণ করার জন্য পুণরায় আদেশ আসে। আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ঠিকাদার তিনফিট উচ্চতা বাড়িয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করেন। কিন্তু এর পরেও সেতুটির উচ্চতা না হওয়ায় তুলনামূলক নিচু হওয়ায় বন্যা আসার আগেই বর্ষার পানি সেতুর স্লাব ছুঁই ছুঁই হয়ে পড়েছে। ফলে খাল দিয়ে মৎস্যজীবি এবং ব্যবসায়ীদের নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে চরম বেকায়দায় পড়েছেন ব্যবসায়ী ও মৎস্যজীবিরা।

স্থানীয়দের মতে, ওই এলাকায় সড়কে দু’পাশে এক হাজারের অধিক মৎস্যজীবি রয়েছেন। সড়কে দক্ষিণ পার থেকে সেতুর নিচ দিয়ে নৌকা যোগে রক্তদহ বিলে মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এছাড়া ঝিনা, আকনা, লোহাচুড়িয়া ও বড়গাছা এলাকার ব্যবসায়ীরা বর্ষার সময় খাল পথে নৌকা নিয়ে বগুড়ার সান্তাহার থেকে বিভিন্ন মালামাল পরিবন করে থাকেন। কিন্তু খালের উপর নির্মাণাধীন সেতুটি একেবারে নিচু হওয়ায় বন্য আসার আগেই ভারী বর্ষণের পানিতে সেতুর তলা ছুঁই ছুঁই হয়ে পড়ায় নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে কয়েক গ্রামের মৎস্যজীবি ও ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বেকায়দায়।

রাণীনগর উপজেলা মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি প্রফল্য চন্দ্র এবং সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, এই ব্রিজটি নির্মাণ শুরু করলে একদম নিচু হওয়ায় নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে দেখে আমরা ব্রিজটি আরো ৮/১০ ফিট উচুঁ করে নির্মাণের দাবি জানাই। এতে কর্তৃপক্ষের লোকজন এসে পরিদর্শন করে ব্রিজের মাথা ভেঙ্গে মাত্র তিন ফিট উচ্চতা বাড়িয়ে ব্রিজ নির্মাণ শুরু করেছে। বিভিন্ন দফতরে ধর্ণা দিয়েও কোনো ফল হয়নি। ফলে নৌকা চলাচল করতে না পারায় প্রায় দেড় হাজার মৎস্যজীবি চরম বেকায়দায় পড়েছেন।

এ ব্যাপারে প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মুনসুর রহমান বলেন, নকশা অনুযায়ী সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনায় তিন ফিট উচ্চতা বাড়িয়ে সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নওগাঁ জেলা প্রকৌশলী হামিদুল হক বলেন, সড়কের সাথে মিল রেখে সেতু নির্মাণ হচ্ছে। এর চেয়ে বেশি উঁচু করলে সড়ক থেকে সেতুর উচ্চতা অস্বাভাবিক হবে। এতে যান চলাচল ঝুঁকিপূণ হবে। যদিও এখন নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে তারপরেও ভারী বন্যা হলে ওই সেতুর বিকল্প হিসেবে অন্য সেতুর নিচ দিয়ে চলাচল করতে পারবে।