সীতাকুণ্ডের দক্ষিণ বগাচতর গ্রামের বেড়িবাঁধে নির্মাণাধীন স্লুইস গেটটির কাজ যথাসময়ে শেষ না করায় চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। ছয়টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার কৃষি পরিবারের জীবন জীবিকায় দেখা দিয়েছে অনিশ্চিয়তা। এ স্লুইস গেটটি নির্মাণের উদ্যোগ কৃষকদের উপকারে করা হলেও এটি এখন তাদের গলার কাটায় পরিণত হয়েছে।
জানা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু করে জুনে শেষ করার কথা থাকলেও অর্ধেক শেষ করে কাজ বন্ধ রাখে ঠিকাদার। ফলে বর্ষাকালে বৃষ্টির ও সমুদ্রের পানিতে ডুবে যায় আশপাশের পুরো এলাকা। লবণাক্ত পানিতে ক্ষেতের জমি ডুবে যাওয়ায় এই অঞ্চলে কোন সবজির আবাদ হচ্ছে না, হচ্ছে না ধান চাষও। কৃষি নির্ভর এলাকা হওয়ায় বেশির ভাগ কৃষক পরিবারে চলছে করুন হাহাকার।
অসমাপ্ত স্লুইস গেটের কারণে গেল দুই বছর বর্ষায় বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ডুবে যায় আশপাশের পাঁচটি গ্রাম। ফলে লবণাক্ত পানিতে নষ্ট হয়েছে কৃষি জমির ফসলি ক্ষমতা হ্রাস পায়। পানিতে ভেসে গেছে অসংখ্য পুকুরের মাছ। যাতায়াত ব্যবস্থা এতটাই নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে এলাকার জনসাধারণের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকাবাসীর ঘর ও উঠান প্রতিদিন জোয়ারের সময় ২ বার ডুবে যায়।
স্থানীয় মহানগর মীর সিরাজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মহিউদ্দীন জানান, অসমাপ্ত স্লুইস গেটের দুর্ভোগ আমাদের বিদ্যালয়েও নেমে আসে। বর্ষা মৌসুমে প্রতিনিয়ত বিদ্যালয়ের মাঠে হাটু পর্যন্ত পানি অবস্থান করায় ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের যাতায়াতে দুর্ভোগের শেষ থাকে না।
স্থানীয় কৃষক গিয়াস উদ্দিন, মুমিন, এমদাদসহ আরো অনেকে জানান, ২ বছর তারা জমিতে চাষাবাদ, গরু-ছাগল পালন কিংবা পুকুরে মাছ চাষ করতে পারছে না। বর্তমানে করোনার মধ্যে বেকার হয়ে যাওয়া অসংখ্য মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। সাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে পানির ভয়ে ঘর-বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যেতে হয়। উদ্বিগ্ন থাকতে হয় বয়স্ক ও শিশুদের নিয়ে।
১নং সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এইচ এম তাজুল ইসলাম নিজামী বলেন, অসমাপ্ত স্লুইস গেটের কারণে কৃষি প্রধান এই অঞ্চলের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বারবার জানালেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
যথা সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার বিষয়ে ঠিকাদার মো: আলমগীর বলেন, প্রয়োজনীয় কাজের তুলনায় বরাদ্দ কম থাকাতে কিছু দিন কাজ বন্ধ ছিল। বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে বলে আমাদের জানানো হয়েছে। এখন নতুন নকশায় কাজ শুরু হবে।



