ভারি বর্ষণের ফলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও পৌরসভার চারটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের গ্রামগুলোতে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পানি জমে থাকে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও বাড়ির আঙিনা পানিতে তলিয়ে রয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সোনারগাঁও পৌরসভার সাহাপুর, ভট্টপুর, বানিনাথপুর ও রঘু ভাঙা গ্রামবাসী অনেক সমস্যার মধ্যে দিয়ে জীবন যাপন করছেন। দুই দিনের ভারী বর্ষণে এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। রাস্তা ঘাট ও বাড়ির উঠানে হাটুপানি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গ্রামে কোনো পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। ফলে একটু বৃষ্টি হলেই এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। বৃষ্টির পানিতে গ্রামের ভিতরে ছোটখাটো দোকানগুলো সমস্যায় পড়ে যায়। মানুষ রাস্তায় বের হতে পারছে না।
এদিকে মহামারী করোনার পরিস্থিতিতে ঘরবন্দি হয়ে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি ঘর থেকে বের হতে না হতেই পানি পারাতে হয়। তাতে করে জ্বর আসতে পারে এই নিয়ে আতঙ্কে আছে এলাকার মানুষ। করোনায় শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে থাকতে হয় শুষ্ক জায়গায়।
এলাকাবাসীর আরো অভিযোগ, এলাকার জনপ্রতিনিধিরা এখন কোনো খোঁজ খবর নিচ্ছেন না। তাই তারা অনেক ভোগান্তিতে আছে। তাদের চাওয়া, আমাদের বাঁচাতে হলে প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে। আর এই পানি বের হওয়ার রাস্তা করে দিতে হবে। সরকারি সহায়তা না পেলে আমাদের পক্ষে এসব করা এই সম্ভব না। এই গ্রামবাসীকে পানি মুক্ত করতে হলে আগের ড্রেনটাকে মেরামত বা পুনরায় কাজ করতে হবে। তাহলেই এই গ্রামবাসীর পানিমুক্ত হবে। এতে এগিয়ে আসতে হবে জনপ্রতিনিধি ও সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।
সাহাপুর গ্রামের গৃহবধূ রেহেনা আক্তার বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। পানি সরানোর স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় পানি জমে দূর্গন্ধ হয়ে পানিবাহিত রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া সাপ ও জোকের উপদ্রুপ বেড়ে যায়। শিশুরা এতে ভয় পাচ্ছে।
সোনারগাঁও পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মধু বলেন, পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে সেচ পাম্প বসিয়ে পানি সরানো হবে। স্থায়ী সমাধানেরও চেষ্টা চলছে।



