বাগেরহাটের চিতলমারীতে খননকৃত পুরনো মধুমতি নদী হস্তান্তরের আগেই স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। তারা নদী ও খালের ভেতর পাকাস্থাপনা নির্মাণ করায় পানি প্রবাহ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সরকারের ২৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনিটি নদী ও ৫৫টি খাল খনন প্রকল্প মুখথুবড়ে পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলেছে, খাল খনন এখনো শেষ হয়নি।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পানি প্রবাহের গতি ফিরিয়ে আনতে সরকার চিতলমারীর পুরনো মধুমতি, হক ক্যানেল ও মরা চিত্রসহ তিনিটি নদী ও ৫৫টি খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়। এ প্রকল্পে ২৫৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর চিতলমারী সদর বাজারে মরা চিত্রা নদীর পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মধ্যে দিয়ে খাল ও নদী খনন শুরু হয়। ইতোমধ্যে বেশ কিছু খাল খনন হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এখনো হক ক্যানেলের দুইপাড়ে প্রভাবশালীদের গড়ে তোলা অবৈধ পাকা ইমারত উচ্ছেদ হয়নি। ওই প্রভাবশালীদের দেখাদেখি পুরনো মধুমতি নদী হস্তান্তরের আগেই আরো কয়েকজন পাড় দখল করে নদীর ভেতর অবৈধ পাকাস্থাপনা নির্মাণ করেছেন। অনেকে আবার স্থাপনা নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। খননকৃত পুরনো মধুমতি নদীর পাড়ে দখলকারীরা হলেনÑ শান্তিপুর ব্রিজের গোড়ায় সুকেশ মণ্ডল, বোয়ালিয়া গ্রামের ভক্ত মণ্ডল, বিপুল বিশ্বাস, তপন রায়, বাপ্পী, কুড়ালতলা ব্রিজের গোড়ার রাসেক মিয়া, মান্নান গাজী, অলি গাজী ও মিন্টু শেখসহ ১৫-২০ জন। তাদের স্থাপনায় পানি প্রবাহ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে রাসেক মিয়া জানান, তিনি খালেরপাড় দখল করলেও নদীর মধ্যে তো যাননি। এতে পানি প্রবাহের কোনো ক্ষতি হবে না।
তবে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাহিদুজ্জামান জানান, খনন কাজ এখনো শেষ হয়নি। উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত আছে।