ত্রাণের চাল আত্মসাতের অভিযোগে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ ইউনিয়ন পরিষদ-১ শাখার উপসচিব ইফতেখার আহমদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেয়া হয়।
জানা যায়, গত এপ্রিল মাসে পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি ত্রাণের ১৫ টন চাল বিতরণ না করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এর প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা সংস্থা। এরই ধারাবাহিকতায় ২৭ এপ্রিল প্রকল্প বাস্তবায়নক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলামকে বরাদ্দকৃত জিআরের ১৫ টন চালের মাষ্টার রোল ও অন্যান্য কাগজপত্র জমা না দেয়ার জন্য নোটিশ দেন।
কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় ২৮ এপ্রিল রাতে তার বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগে পেকুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (১) ধারায় কালোবাজারীর অভিযোগে এ মামলাটি রুজু করা হয়।
মামলায় একমাত্র আসামি করা হয় চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলামকে। পরদিন ২৯ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এক আদেশে জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীকে ত্রাণের চাল আত্মসাতের দায়ে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। ৩০ এপ্রিল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের পদ থেকেও একই কারণে বহিষ্কার করা হয় তাকে। ওই দিনই একই ঘটনার রেশ ধরে পেকুয়ার ইউএনও সাঈকা সাহাদাতকে বদলী করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। আবার ১ মে তার বদলী আদেশ স্থগিত করা হয়। পরে এ ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) দীপক চক্রবর্তীকে আহবায়ককরে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে গত ৪ মে উক্ত কমিটি পেকুয়া উপজেলা পরিষদে এ বিষয়ে দিনভর শুনানী শেষে ৩৬ জনের স্বাক্ষ্য নেন। সর্বশেষ ১০ মে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ ৯ জনকে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে অধিকতর শুনানীর জন্য তলব করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, যেহেতু পুনঃতদন্তে সাময়িক বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম কর্তৃক চাল আত্মসাতের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে এবং কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব সন্তোষজনক বিবেচিত হয়নি বিধায় জনস্বার্থে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪ (৪) (ঘ) ধারার অপরাধে একই আইনের ৩৪ (৫) ধারা অনুযায়ী তাকে স্বীয় পদ থেকে চুড়ান্তভাবে অপসারণ করা হলো। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৫ (২) ধারা মোতাবেক পদটি শূন্য ঘোষণা সংক্রান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারির জন্য পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়।
সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখা থেকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা হিসেবে ৪০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। (যার স্বারক নং ৫১.০১.২২০০.০০০.৪১.০০৩.১৯.৫৬১)। বরাদ্দকৃত এ ৪০ টন হতে তৎকালীন ২৫ টন চাল টইটং ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়। বাকি ১৫ টন চাল সেই সময়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব উল করিম বরাদ্দ না দিয়ে ভবিষ্যত যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য রিজার্ভ ফান্ডে জমা রাখেন। এরই মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন শুরু হলে এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে উক্ত ১৫ টন চাল আত্মসাতের ফন্দি আঁটেন ওই চেয়ারম্যান। রিজার্ভ ফান্ডের সেই ১৫ টন চাল করোনা ভাইসরাসের প্রভাবে দিনমজুর, রিক্সা চালক, অসহায় দুস্থ পরিবারের মধ্যে বিতরণের জন্য গত ৩১ মার্চ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সৌভ্রাত দাশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈকা শাহাদাত স্বাক্ষরিত একটি বরাদ্দপত্রে টইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুকুলে বরাদ্দ দেন। পরে চেয়ারম্যান নিজেই ওই চাল চিরিঙ্গা খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করেন।



