বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ঢাকার দোহার উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী, জলাশয় ও খালগুলোতে শুরু হয়েছে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার মচ্ছব।
বড়শি দিয়ে মাছ ধরার ঐতিহ্য খুবই প্রাচীন। বর্ষা মৌসুমে বড়শি দিয়ে মাছ শিকারের বাংলার চিরায়ত দৃশ্যের দেখা মেলে এদেশের প্রতিটি অঞ্চলে। বিকেল হলেই মাছ ধরার এমন মনোমুদ্ধকর দৃশ্য যেন ফেলে আসা স্মৃতিকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। এ দৃশ্য দর্শকদের মনেও আনন্দের খোড়াক যোগায়।
করোনাকালে বিকেলটা অনেকেই অবসরে কাটাচ্ছেন। তাই এই সময়টা একেবারে ঘরে বসে না থেকে একটু-আধটু কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। আর তারই অংশ হিসেবে বরশি দিয়ে মাছ ধরার কাজে অনেকেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ। বড়শিতে ধরাও পড়ছে মাছ। যেজন্য সবার মাঝে মাছ ধরার আগ্রহটাও বেশি।
বড়শি দিয়ে মাছ ধরা সহজসাধ্য ও খরচ কম বলে অনেকেই ঝুঁকছেন মাছ ধরায়। ছিপ, বড়শি ও সুতা দিয়ে খুব সহজেই বড়শি বানিয়ে মাছ ধরা সহজ। তাই দোহার উপজেলার নদ-নদী ও খালবিলে বড়শিতে ধরা পড়ছে টেংরা, পুঁটি, কই ,শিং, শোল, বোয়াল, বাইম, বেলে, পাবদা ও তেলাপিয়া সহ বিভিন্ন ধরনের মাছ। বড়শিতে বল্লা ও পিপড়ার ডিম দিয়ে ধরা হচ্ছে এই সমস্ত মাছ।
উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী এলাকা নদীসমূহে ও উপজেলার পদ্মা শাখা খালে যেমন; সুতারপাড়া খাল, নুপপুর খাল, জামালচর খাল, পালামগঞ্জ খাল, লটাখোলা খাল, সাহেবখালী খাল, বৌবাজার খালে দুপুরের পর থেকে মাছ ধরার কাজে মগ্ন থাকে। এ সময়টাতে বড়শিতে মাছ ধরা পড়ার কারণে অন্যদেরকে আগ্রহ বাড়ছে। এদের মধ্যে সৌখিন মাছ শিকারী হলেও কিছু পেশাদার শিকারী রয়েছে বলে জানা যায়।
মাছ ধরার জন্য খালের পাড়গুলো পড়ন্ত বিকেলে লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। আবার অনেকে মাছ না ধরলেও মাছ ধরার এমন সুন্দর দৃশ্য দেখার জন্য জড়ো হতে থাকেন। কারণ বড়শি দিয়ে মাছ ধরার এমন দৃশ্য কেবল বর্ষাকাল এলেই চোখে পড়ত!



