কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে রাস্তায় সন্তান প্রসবকারী মানসিক ভারসাম্যহীন নারী এবং তার সন্তানকে গাজীপুর সমাজসেবা আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। অনলাইন পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক প্রচার করেও ওই নারীর পরিচয় ও তার সন্তানের বাবার সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাই তার মানসিক রোগের চিকিৎসা এবং তার সন্তানকে উপযুক্ত পরিবারে দত্তক দেয়ার সুপারিশ করে গতকাল সোমবার বাজিতপুর উপজেলা প্রশাসনের পরামর্শক্রমে বাজিতপুর হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগ থেকে গাজীপুরে স্থানান্তর করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জালাল উদ্দিন আহমেদ, বাজিতপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ বাবুল মিয়া, মেডিক্যাল ও রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ডাঃ তাহলিল হোসেন শাওন, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মুশফিকুর রহমান ও বাজিতপুর থানার দু’জন পুলিশ সদস্য।
উল্লেখ্য, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী গত ১১ আগষ্ট বাজিতপুর উপজেলার বলিয়ার্দী ইউনিয়নের নোয়াহাটা গ্রামের একটি রাস্তায় একটি সন্তান প্রসব করেন। পরে সেখান থেকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে তাকে বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি করানো হলে বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সমাজসেবা কর্মকর্তার তত্বাবধানে তার চিকিৎসা দেয়া হয়।
মঙ্গলবার সকালে বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জালাল উদ্দিন আহমেদ নয়াদিগন্তকে বলেন, বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় প্রতিবন্ধী ওই নারী এবং সন্তানের চিকিৎসার বিষয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং জাতীয় সমাজসেবার আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি আরো বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন নারী শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও মানসিকভাবে সুস্থ হননি। জাতীয় সমাজসেবা বিভাগকে ওই নারীর উন্নত চিকিৎসা ও তার সন্তানকে উপযুক্ত পরিবারে দত্তক দেয়ার সুপারিশ করে বাজিতপুর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।



