বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় নদ-নদীতে ভরা মৌসুমে ইলিশ নেই। জেলেরা নদ-নদীতে জাল ফেলে ইলিশ না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফেরেন। অথচ এখন ইলিশ মৌসুম। কিন্তু সাগরেও তেমন ইলিশের দেখা নেই। লাখ, লাখ টাকা খরচ করে একটি ফিশিং ট্রলার নিয়ে ১২ থেকে ১৪ জন জেলে সাগরে গিয়ে প্রায় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। পিরোজপুর মৎস্য ট্রলার মালিক সমিতির সেক্রেটারি মোঃ মামুন মাঝি আক্ষেপ করে এ কথাগুলো বলছিলেন।
শুধু তিনি নন, পিরোজপুরের পাড়েরহাটের বাদুরা মৎস্য আড়তদার সমিতির সেক্রেটারি গোলাম মোস্তফাও একই কথা জানান। তিনি বলেন, অনেক দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ট্রলার মালিকরা মোটা অংকের টাকা খরচ করে সাগরে জেলেদের পাঠিয়ে খরচের টাকাও ওঠাতে পারছেন না। ট্রলার মালিক, আড়ৎদার ও জেলেদের এখন না খেয়ে মরার পালা।
তিনি বলেন, স্থানীয় নদ-নদীতেও ইলিশ নেই বললেই চলে। ট্রলার মালিকরা ধার-দেনা করতে করতে এখন অসহায়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ভান্ডারিয়া উপজেলার জেলে পল্লী তেলিখালী, জুনিয়া, হেতালিয়া ও চরখালী ইন্দুরকানী উপজেলার জেলে পল্লী উমেদপুর ও টগড়া, পিরোজপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ গাজীপুর ও বাদুরা জেলে পল্লীতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরিবার-পরিজন নিয়ে জেলেরা যেমন কষ্টে দিন পার করছেন তেমনি ফিশিং ট্রলার মালিক ও আড়ৎদাররাও ধার-দেনায় জড়িয়ে পড়েছেন। ফিশিং ট্রলার সাগরে পাঠাতে যে সমস্ত কাচা বাজার (নিত্যপণ্যে দোকান) সরবরাহকারী দোকানদার রয়েছেন জেলেরা মাছ না পাওয়ায় তারাও সমস্যায় পড়েছেন। পিরোজপুরের কঁচা, বলেশ্বর, সন্ধ্যা ও কলীগঙ্গা নদীতে চলতি বছরের বেমৌসুমে (সিজন ছাড়া) কিছু ইলিশ দেখা গেলেও এখন চলতি মৌসুমে ইলিশ নেই বললেই চলে। করোনার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ায় জেলেরা এক রকম দিন যাপন করেছেন। এখন আবার ইলিশ মৌসুমে মাছ না থাকায় তাদের যেন মরার ওপর খারার ঘা।



