শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটের নাব্যতা সঙ্কট পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক। গত বুধবার তিনি লৌহজং টার্নিং চ্যানেল, পদ্মা সেতুর চায়না চ্যানেল পরিদর্শন করেন ও ড্রেজিং কার্যক্রম তদারকি করেন। এ সময় বিআইডব্লিউটিএর প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক বলেন, আমরা চেষ্টা করছি ৪-৫ দিনের মধ্যে লৌহজং টার্নিং চ্যানেলটি চালু করতে। তাহলে সব ধরনের ফেরি চালু হবে। পদ্মা সেতু যে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে ক্রস করার জন্য। সে জন্য আমরা রাতে ফেরি বন্ধ রাখছি ও দিনে ছোট ছোট কয়েকটি ফেরি চালাচ্ছি। ফেরি মাস্টার ও লঞ্চ মাস্টারদের সাবধানতার সাথে নৌযান চালাতে হবে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে স্রোত বেশি তাই পলি অনেক বেশি আসে। আমরা বিআইডব্লিউটিসির মাধ্যমে চেষ্টা করছি ছোট ফেরির সংখ্যা বাড়াতে।
বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান আরো বলেন, আমি জনসাধারণকে অনুরোধ করব তারা যেন বিকল্প রুট হিসেবে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ব্যবহার করেন। কয়েক দিন কষ্ট করতে হবে। কয়েক দিনের মধ্যে সুন্দর ব্যবস্থা চালু করব। আমরা চেষ্টা করছি নৌ পরিবহন যাতে একেবারেই বন্ধ না হয়ে যায়। ক্ষুদ্র পরিসরেও যেন চালু থাকে। বিআইডব্লিউটিএ সে লক্ষ্যে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে বিআইডব্লিউটিএর খননকৃত সকল চ্যানেল বন্ধ হয়ে গেছে নাব্যতা সঙ্কট ও ডুবোচরের কারণে। সীমিত আকারে ছোট ৩-৪টি ফেরিসহ লঞ্চ ও স্পিডবোটসহ বিভিন্ন নৌযান চলছে পদ্মা সেতুর চায়না চ্যানেল দিয়ে। ফেরিতে অচলাবস্থার কারণে উভয় ঘাটে শত শত যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে ৪ দিন ধরে এ রুটে সন্ধ্যার পর ফেরি বন্ধ রাখছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ।
এ দিকে এই নৌপথে গত ৫ দিন থেকে নৌ দুঘর্টনা এড়াতে রাতের বেলা ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। দিনের বেলায় কোনো রকম ছোট ৪টি ফেরি দিয়ে জরুরি সেবার যানবাহনগুলোকে পারাপার করলেও গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে নৌপথে নাব্যতা সঙ্কটের কারণে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ফলে উভয় ঘাটে আটকা পড়ে অসংখ্য যানবাহন।
বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ি ঘাট সূত্র জানায়, গতকাল সকালে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ফেরিঘাট থেকে যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে ক্যামেলিয়া ও কলমিলতা নামে ছোট দু’টি ফেরি মাদারীপুর জেলার শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। কিন্তু নাব্যতা সঙ্কটের কারণে চ্যানেলের মুখে এসে আটকে পড়ে। দীর্ঘসময় চেষ্টা করেও যখন ফেরি দু’টি চ্যানেলের মুখ অতিক্রম করতে না পেরে পুনরায় শিমুলিয়া ঘাটে ফিরে যায়। এরপর কর্তৃপক্ষ ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা। ভোগান্তি কমাতে যানবাহনগুলোকে কাঁঠালবাড়ী ঘাট এলাকার ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। এই নৌপথে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল স্বাভাবিক থাকায় সাধারণ যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে। তবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যক্তিমালিকানা গাড়িসহ পরিবহনের সাথে থাকা যাত্রী ও চালকেরা। আর এই সুযোগে ট্রলার মালিকরা মোটরসাইকেল প্রতি ৬০০ টাকা করে ভাড়া আদায় করে নদী পার করছে।



