পটুয়াখালীর দুমকিতে প্রকল্প-২ আওতায় ভিটি আছে, ঘর নেই গৃহহীন এমন অসহায় পরিবারকে সরকারি বরাদ্দে ঘর নির্মাণের তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাবে অসচ্ছল পরিবারের পরিবর্তে সম্পদশালীরা তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প-২-এর আওতায় স্থানীয় প্রশাসনের তৈরি তালিকায় দুমকি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের তিন শতাধিক গৃহহীন অসচ্ছল পরিবারকে সরকারি বরাদ্দে বসতঘর নির্মাণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। গত জুনে দুমকি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-ইমরান, লেবুখালী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) সেলিম ও সার্ভেয়ার মজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত তালিকাটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তালিকার অধিকাংশই সচ্ছল এবং প্রত্যেকেরই বসবাসের উপযোগী পাকা, আধাপাকা ও টিনশেড বাড়ি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম ওই তালিকায় স্থান পেয়েছে এমন অভিযোগও রয়েছে ভুক্তভোগীদের। একই তালিকায় দালাল চক্রের মাধ্যমে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় জড়াজীর্ণ গোয়ালঘর ও রান্নাঘরের ছবি দেখিয়ে নাম তোলা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বাবুল হাওলাদার, রিপন ফকির, মিজানুর শরীফসহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের চরবয়ড়া গ্রামের বাসিন্দা বসবাসের উপযোগী ঘর না থাকলেও টাকা দিতে না পারায় তালিকায় নাম আসেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেন, তৈরি তালিকায় এমন একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে যারা সচ্ছল ব্যক্তি এবং তারা দালানের মালিক। টাকার বিনিময়ে একই পরিবারের দু-তিনজনের নামও তালিকায় তোলা হয়েছে। তারা জানায়, শুধু শ্রীরামপুর বা মুরাদিয়ায় নয়, পুরো উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের তালিকা তৈরিতেই অনিয়ম আছে।
মুরাদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জাফর উল্লাহ বলেন, সরকারি খরচে ঘর বরাদ্দের তালিকা ভূমি অফিস করেছে। আমার ইউনিয়ন থেকে তালিকা চেয়েছিল। ৭৫ জনের একটি তালিকা দিয়েছিলাম; কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় মাত্র সাত-আটটি নাম আছে, বাকিদের নাম বাদ গেছে। শ্রীরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম সালাম জানান, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। কারা তালিকা করেছে তা-ও জানি না। তবে আমরা যদি কোনো তালিকা দিই তা কখনোই বাস্তবায়ন হয় না।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-ইমরান বলেন, প্রকল্পের বিধিবিধান অনুসরণেই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বিশেষত করোনাকালীন দুর্যোগের কারণে শতভাগ যাচাই-বাছাই সম্ভব হয়নি। এতে দু-একটি ভুল থাকতে পারে। আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার জানা নেই, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কেউ কারো বিরুদ্ধে আমার কাছে কোনো অভিযোগ করেনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে এবং অভিযুক্তের প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রকল্প-২-এর ঘরের বিতরণ তালিকা তৈরির বিষয়টি আমি জানি। করোনা পরিস্থিতির কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও শতভাগ যাছাই করা সম্ভব হয়নি। দু-একটা ত্রুটি থাকলে বা বের হলে তা বাতিল করা যাবে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন অর-রশিদ হাওলাদার বলেন, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সুপারিশ করবে এটা স্বাভাবিক ঘটনা। সুপারিশ আমলে নেয়া না নেয়ার এখতিয়ার তাদের। নিয়মবহির্ভূত কাজ করলে তার দায় তাদের (তালিকা প্রনয়ণকারী) এবং জবাবদিহিও তারা করতে বাধ্য।
পটুয়াখালীতে গরিবের ঘরের তালিকায় বিত্তশালীদের নাম
পটুয়াখালীর দুমকিতে প্রকল্প-২ আওতায় ভিটি আছে, ঘর নেই গৃহহীন এমন অসহায় পরিবারকে সরকারি বরাদ্দে ঘর নির্মাণের তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাবে অসচ্ছল পরিবারের...



