আবাসিক এলাকার পুকুর থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় পুকুরের গভীরতা বেড়ে পাশের বাড়ির ভিত ধসে গেছে। ওই স্থানের একটি বাড়ির তিনটি ঘরের দেয়াল ও মেঝে ভেঙ্গে বিশাল ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে দেয়ালের ফাটল থেকে প্লাস্টার সরে গিয়ে ইটগুলো খুলে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এতে ওই অবস্থানে বাড়িটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এ পরিস্থিতিতে প্রাণহানির আশঙ্কা সত্ত্বেও ওই অবস্থানের বাড়িগুলোতে বসবাস করছেন ১০ জন মানুষ। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালিপুর ইউনিয়নের বাড়াইশালপাড়া কদমতলী এলাকার ঘটনা এটি। বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরটি অত্যন্ত গভীর। নিয়মানুযায়ী প্রয়োজনীয় কোনো পাড় বাঁধানো নেই। পূর্ব ও দক্ষিণ পাশে বাড়ির সীমানা ঘেঁষেই পুকুরটি বিদ্যমান। ফলে এদিকের পাড় বিলীন হয়ে দু'পাশের বাড়ির মাটি এখন পুকুরে চলে যাওয়ার উপক্রম। পূর্বদিকের বাড়ির মালিক অবসরপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ সরকার সীমানায় নিজ উদ্যোগে মাটি ভরাট করে গাছ লাগানোয় উপরের মাটি রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু দক্ষিণের বাড়ির মালিক ভ্যানচালক আব্দুল করিম দরিদ্র হওয়ায় মাটি দিতে না পারায় তার বাড়ির অনেকাংশ ক্ষয়ে ক্ষয়ে পুকুরে চলে গেছে। এমনকি তার টয়লেটের সেনেটারি ট্যাংকের আশেপাশের মাটি সরে গিয়ে স্লাব বেড়িয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ সরকার জানান, পুকুরের পাড় না থাকায় আমার ও প্রতিবেশীর বসতবাড়ির মাটি খসে পড়ছে। বর্ষাতে এ পরিস্থিতি প্রকট আকার ধারণ করে। পুকুর মালিক মো: ইদ্রিস আলীকে বার বার তার পুকুরের পাড় বাঁধতে বলা সত্ত্বেও তিনি বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করেননি। বাধ্য হয়ে কয়েক বছর আগে নিজেই মাটি ভরাট করে গাছ লাগিয়েছি। কিন্তু পুকুর থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলায় এর গভীরতা বেড়ে গেছে। ফলে দিন দিন বালু সরে গিয়ে আশেপাশের উচু বসতভিটার ভূগর্ভস্থ অংশের মাটি ক্রমে ক্ষয়ে ক্ষয়ে পুকুরে চলে যাচ্ছে।

আরেক প্রতিবেশী বলেন, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সৈয়দপুরসহ রংপুর বিভাগে শতবর্ষের রেকর্ড বৃষ্টিপাতের ফলে ধ্স নামে। এতে আমার টিনসেড আধাপাকা বাড়ির নিচের মাটি সরে গিয়ে ধসে পড়েছে। পাশে গাছ থাকায় পুকুরের ভিতরে হেলে না গেলেও তিনটি ঘরের দেয়াল ও মেঝে ভেঙে বিশালাকার ফাটলের সৃষ্টি হয়। এতে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি ও পরিবার পরিজন নিয়ে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছি। বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও নিরুপায় হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে থাকতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ব্যাপারটা পুকুর মালিককে জানালে তিনি কোনো সমাধান তো দূরে থাক উল্টো দোষারোপ করে বলছেন পুকুরপাড়ের বাড়ি কেনার সময় হুশ ছিল না, আমরা কিছুই করতে পারবো না।

বাঙ্গালিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শ্রী প্রণোবেশ চন্দ্র বাগচী বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। পুকুরের কারণে বাড়িটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। দুয়েক দিনের মধ্যে উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে সুরাহা করা হবে।