নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে নিজঘরে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন। তিনি ভিকটিম এবং তার পরিবারের সাথে কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। দ্রুততম সময়ে সব আসামিকে গ্রেফতার করা হবে।
মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক (তদন্ত ও অভিযোগ) আল মাহমুদ ফজলুল কবিরও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভিকটিমের সাথে কথা বলেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, দেলোয়ার ইতিপূর্বে আরো কয়েকবার ভয়-ভীতি দেখিয়ে ভিকটিমকে ধর্ষণ করেন এবং এ ঘটনা যদি কারো কাছে প্রকাশ করে তাহলে তাদের কাছে থাকা আরো ভিডিওগুলো ইন্টারনেটে প্রকাশ করে দিবে বলে হুমকি দেয়। নিরাপত্তাহীনতার ও ভয়ের কারণে ঘটনার মূল হোতা দেলোয়ারের নাম প্রকাশ করেননি ভিকটিম। আমারা এ ঘটনায় একটি ধর্ষণ মামলা করব।
এদিকে, এ নির্যাতনের ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধান আসামি বাদল ও ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। পৃথক দুটি মামলায় প্রধান আসামি বাদলের ২০ দিন এবং ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। নোয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ৩ নং আমলী আদালতের বিচারক মাশফিকুল হক প্রধান আসামি বাদলের ৭ দিন এবং সোহাগের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বেগমগঞ্জ মডেল থানার এসআই মোশতাক আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তার আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় চারজনকে রিমান্ডে নেয়া হলো।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে পুরো নোয়াখালী। মঙ্গলবারও জেলার বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার রাতে মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি একলাশপুরের ৯ নং ওর্য়াডের ইউপি সদস্য। অপরদিকে মামলার ৫ নং আসামি লোকমান মিয়ার ছেলে সাজুকে (২১) ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরো বলেন, ভিকটিম নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপারের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগের কাছে তিনি বিচারপ্রার্থী হয়েছেন। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি এবং কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি।
এনিয়ে এ ঘটনায় গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়ালো ছয়জনে। তার মধ্যে চারজন এজাহারভুক্ত আসামি। সোমবার সন্ধ্যায় গ্রেফতারকৃত আবদুর রহিম ও রহমত উল্যাকে আদালতে পাঠিয়ে পৃথক দুটি মামলায় সাত দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। বিজ্ঞ আদালত তিন দিন করে একেকজনের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
এদিকে, দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ারের মাছের খামার থেকে সাতটি ককটেল ও দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, সোমবার সন্ধ্যায় বেগমগঞ্জের দেলোয়ারের মাছের খামারে র্যাব-১১ এর একটি টিম অভিযান চালায়। এসময় ওই মাছের খামার থেকে সাতটি তাজা ককটেল ও দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়।
তার আগে রোববার রাত ১টায় ৯ জনকে বিবাদী করে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন নির্যাতিতা। একটি নারী ও শিশু নির্যাতন, অপরটি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে। পুলিশ রোববার রাত ১১টায় এলাকার মোহর আলী মুন্সি বাড়ির মৃত আ: রহিমের ছেলে মামলার ৯ নং আসামি রহমত উল্লাকে (৪০) গ্রেফতার করে।
এর আগে বিকেলে একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকার হারাধন ভূইয়া বাড়ির শেখ আহমদ দুলালের ছেলে মামলার ২ নং আসামি আ: রহিমকে (২০) গ্রেফতার করে পুলিশ। রাতে প্রধান আসামি বাদলকে ঢাকার কামরাঙ্গীর এবং দেলোয়ারকে অস্ত্রসহ নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে র্যাব। সোমবার রাত ৮টায় বাদলকে বেগমগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।



