নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আসামি মাঈনুদ্দিন সাহেদ শনিবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সরকারি কৌঁশলী গুলজার আহমেদ জুয়েল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ নিয়ে পাঁচজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন।
এ দিকে তিন আসামি বাদল, কালাম ও সাজুকে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শনিবার সকাল ১০টায় ওই তিন আসামিকে সাথে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মামুনুর রশিদ পাটোয়ারী একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে নির্যাতনের শিকার ওই নারীর বাড়িতে যান। এ সময় পিবিআই এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাথে ছিলেন।
পিবিআই কর্মকর্তারা ওই বাড়িতে ২০ মিনিটের মতো অবস্থান করে নির্যাতনের ঘটনাস্থল ও আশপাশে ঘুরে ঘুরে দেখেন। তবে এ সময় তারা কারো সাথে কথা বলেননি।
এর আগে শুক্রবার সকালে পিবিআই নোয়াখালীর ইন্সপেক্টর সুভাষ চন্দ্র পালের নেতৃত্বে একটি দল একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের নির্যাতিতা ওই নারীকে নিয়ে তার বাড়ি পরিদর্শনে যায়। এ সময় মামলার তদন্তকারী দুই কর্মকর্তা ছাড়াও পিবিআই চট্টগ্রামের তদন্ত বিশেষজ্ঞ ফারুক আহমেদ এবং মামলা দু’টির সাবেক তদন্তকারী কর্মকর্তা বেগমগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাক আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে বাড়িটিতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আলমগীর হোসেন জানান, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনা অনুযায়ী শুক্রবার রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে ভুক্তভোগীর দায়ের করা দুটি মামলা পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়। পিবিআই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করে ইন্সপেক্টর মামুনুর রশিদ পাটোয়ারীকে। এছাড়া পর্নোগ্রাফি আইনে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা করা হয় ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমানকে।
উল্লেখ্য, উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকার নুর ইসলাম মিয়ার মেয়ের সাথে স্বামীর মনমালিন্য ছিলো দীর্ঘদিন। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন। তিনি এক মেয়ে ও এক ছেলের মা। এক মেয়েকে বিয়ে দেন এবং ছেলে একলাশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্র। একাকিত্বের সুযোগে স্থানীয় বাদল ও দেলোয়ারের নেতৃত্বে এলাকার, রহিম, কালাম ও তাদের সহযোগীরা ওই নারীকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল।
দুই সেপ্টেম্বর রাতে ওই গৃহবধূর স্বামী শ্বশুর বাড়িতে আসে। তারা ঘরে অবস্থান করার সময় স্বামীসহ গৃহবধূকে আটক করে অভিযুক্তরা নির্যাতন চালায়। তারা ওই নারীর স্বামীকে বেঁধে রেখে অবৈধ সম্পর্কের কথা বলে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করে। এ সময় তার বিবস্ত্র নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে নির্যাতনকারীরা। তার পর থেকে পুরো পরিবারকে অবরুদ্ধ করে অভিযুক্তরা। এক পর্যায়ে নির্যাতিতাকে বাড়ি ঘর ছাড়তে বাধ্য করে। ঘটনার ৩২ দিন পর চার অক্টোবর রোববার ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিবস্ত্র নির্যাতনের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হলে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় নির্যাতিতা বেগমগঞ্জ মডেল থানায় তিনটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত ছয় জন এবং তদন্তেযুক্ত করা হয়েছে পাঁচজনকে।



