রংপুরের মিঠাপুকুরে চা দোকানি গুলশান মিয়াকে কুপিয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে।

উপজেলার বাতাসন দুর্গাপুর গ্রামে গত সোমবার দিবাগত রাতে ঘটনাটি ঘটে।

নিহত গুলশান মিয়া মিঠাপুকুর উপজেলার মমিনপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগমসহ দু’জনকে আটক করেছেন। তবে পরকীয়া প্রেমিক হারুন পলাতক রয়েছেন।

থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গুলশান মিয়ার সাথে রংপুরের মাহিগঞ্জ এলাকার মৃত মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে সেলিনা বেগমের প্রায় ১০ বছর আগে বিবাহ হয়। বিয়ের পর লতিবপুর ইউপির বাতাসন দুর্গাপুর গ্রামের মামা মোকছেদুলের বাড়ির পাশে গুলশান মিয়া ভাড়া বাসায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি উপজেলার জায়গীর বাসস্ট্যান্ডে চা-পানের দোকানদারি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।

এ সময় গুলশানের স্ত্রী সেলিনা বনানীপাড়া গ্রামের কাওছার আলীর ছেলে হারুন মিয়ার সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে একাধিকবার ওই গ্রামে সালিশ বিচার হয়েছে বলে জানা যায়।

এমতাবস্থায় গত সোমবার দিবাগত রাত প্রায় দেড়টার সময় প্রতিদিনের মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক হারুন তার লোকজন নিয়ে রাতের আঁধারে মোটরসাইকেলযোগে এসে গুলশানকে হঠাৎ কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যান।

আহত গুলশানের চিৎকারে প্রতিবেশিরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় পুলিশ স্ত্রী সেলিনা বেগম ও শফিকুল নামে দু’জনকে আটক করেছে। তবে প্রেমিক হারুন পলাতক রয়েছেন।

মিঠাপুকুর থানার ওসি আমিরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।