বেগমগঞ্জের একলাশপুরে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের মামলায় মঙ্গলবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পর্নোগ্রাফি মামলার তিন নম্বর আসামি আবুল কালাম নোয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। পরে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।
নারী ও শিশু নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলার ছয় নম্বর আসামি শামছুদ্দিন সুমনকে একই আদালতে উপস্থাপন করে তদন্ত কর্মকর্তা সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে ঘটনার মূলহোতা দেলোয়ার বাহিনী প্রধান দেলোয়ার হোসেনকে নির্যাতিতা ওই নারীর দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পর্নোগ্রাফি মামলায় গ্রেফতারের আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত। দেলোয়ারকে সকাল সাড়ে ১১টায় জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থাপন করে উল্লেখিত দুই মামলায় শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই নোয়াখালী কার্যালয়ের পরিদর্শক মামুনুর রশিদ পাটোয়ারী। এ বিষয়ে শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ বিচারক হাকিম মাসফিকুল হক তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন মঞ্জুর করে দেলোয়ারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
দোলোয়ার অস্ত্রসহ নারায়ণগঞ্জে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হন। ভিকটিমের দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পর্নোগ্রাফি মামলায় তাকে আসামি না করা হলেও পরে ছয় সেপ্টেম্বর তাকে অভিযুক্ত করে নির্যাতিতা ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার অপর আসামি ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ একই আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক তা নাকচ করে দেন।
উল্লেখ্য, উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকার ওই নারীর স্বামীর সাথে মনোমালিন্য ছিলো দীর্ঘদিন। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন। তিনি এক মেয়ে ও এক ছেলের জননী। এক মেয়েকে বিয়ে দেন আর ছেলে একলাশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র। একাকিত্বের এ সুযোগে স্থানীয় বাদল ও দেলোয়ারের নেতৃত্বে এলাকার রহিম, কালাম ও তাদের সহযোগীরা ওই নারীকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গত দুই সেপ্টেম্বর রাতে ওই গৃহবধূর স্বামী শ্বশুর বাড়িতে আসে। তারা ঘরে অবস্থান করা কালে স্বামীসহ গৃহবধূকে আটক করে অভিযুক্তরা ব্যাপক নির্যাতন চালায়। তারা স্বামীকে বেঁধে রেখে অবৈধ সম্পর্কের কথা বলে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করে। এ সময় তার বিবস্ত্র নির্যাতনের নগ্ন ভিডিও ধারণ করে নির্যাতনকারীরা। তার পর থেকে পুরো পরিবারকে অবরুদ্ধ করে তারা। একপর্যায়ে নির্যাতিতাকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করে।
ঘটনার ৩২ দিন পর ৪ অক্টোবর ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিবস্ত্র নির্যাতনের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হলে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় নির্যাতিতা বেগমগঞ্জ মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন, মধ্যম একলাসপুরের বাদল (২২), রহিম (২০), আবদুল কালাম (২২), ইস্রাফিল হোসেন (২০), সাজু (২১), শামছুদ্দিন সুমন (৩৯) আবদুর রব ওরফে চৌধুরী (৪৮), আরিফ (১৮), রহমত উল্যা (৪১)। পরে নির্যাতিতা দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান পূর্ব একলাশপুর গ্রামের দেলোয়ার ও তার সহযোগী কালামকে আসামি করে ছয় সেপ্টেম্বর আরো একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত ছয়জন এবং তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে পাঁচজনকে।



