টঙ্গীতে মাদক কারবারিদের ছুরিকাঘাতে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম শামীম ওরফে আপন (২৮)। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। শামীম বর্গাচাষী ছিলেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার কোতয়ালি থানার আজেমপাড়ায়। নিহত শামীম স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার সাতাইশ ব্যাংক পাড়ায় কামাল হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সুমন, জয়, আলামিন ও আরমান নামের চার যুবককে আটক করেছে।
নিহতের স্ত্রী লাকি আক্তার জানান, টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের সোর্স ও মাদক কারবারি সুমন, জাহাঙ্গীর, জাহিদসহ আরো কয়েকজন শামীমকে মাদক ব্যবসার প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তিনি তার স্বামীকে এসব মাদক কারবারির সাথে চলতে নিষেধ করেছিলেন। শামীম মাদক কারবারিদের ডাকে সাড়া না দেয়ায় তাকে পুলিশ দিয়ে হয়রানিও করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। গত ৬ সেপ্টেম্বর টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের একজন দারোগাকে সাথে নিয়ে মাদক কারবারিরা শামীমকে এলাকার একটি দোকানের সামনে মারধর করে। এরপর থেকে তিনি মাদক কারবারিদের ভয়ে রীতিমত আতঙ্কিত থাকতেন।
পরে শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি জাহিদ তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে ওই বাড়ির সামনের রাস্তায় পুলিশের সোর্স ও মাদক কারবারি সুমন, জাহাঙ্গীর, জাহিদ ও তাদের সহযোগীরা বেধড়ক পিটিয়ে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা শামীমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি নিহত হন। নিহতের বুকে ও পিঠে চারটি ছুরিকাঘাতের চিহ্নসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অসংখ্য আঘাত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে জিএমপির টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি ইমদাদুল হক নয়া দিগন্তকে জানান, পূর্ব বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ইতোমধ্যে চারজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।



