দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ধর্ষণের শিকার এক গার্মেন্টসকর্মীকে বিচার পাইয়ে দিতে অভিযোগ লিখে দেন সংশ্লিষ্ট থানার ডিউটি অফিসার। কিন্তু সেই লিখিত অভিযোগেই আবার রাখা হয় কিছু আইনি ফাঁকফোকর। এমনকি ধর্ষককে বাঁচিয়ে দিতে করা হয়নি কোনো ডাক্তারি পরিক্ষাও। তবুও ওই নারীকে মামলা হওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে কৌশলে দ্রুত ঢাকায় গার্মেন্টসে যাওয়ার নির্দেশনা দেন ওই পুলিশই।
ঢাকায় পৌঁছার পর মামলার অগ্রগতি জানতে চাইলে পুলিশ ওই নারীকে জানান নবাবগঞ্জ থানায় মামলা হবে না। তবে পরামর্শ দেয়া হয় ঢাকাতেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ এনে মামলা করতে। পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করছেন ধর্ষণের শিকার ওই গার্মেন্টস কর্মী।

ধর্ষণের শিকার ওই গার্মেন্টস কর্মী জানান, ‘দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া ইউপির উবারপাড় এলাকার মো. শহিদুল ইসলামের ছেলে নুর মোহাম্মদ ওরফে নুরুর (৩৮) সাথে আমার পরিচয় হয় ঢাকায়। সেখানেই একটি ভাড়া-বাড়িতে নুরু আসা যাওয়া করার সময় গত দুই বছর যাবৎ তার সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। নুরু আমাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতিতে গত ১৭ আগষ্ট তারিখে ঢাকা থেকে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরদিন ২৮ আগষ্ট তারিখে তিনি আমার বাড়িতে আসে এবং আমাকে বিয়ে করার কথা বলে তার বাড়িতে নিয়ে যান। ওই তারিখে রাতের বেলা তিনি বিয়ে করার শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরে তিনি আমাকে বিয়ে না করে উধাও হয়ে যান। এখন মোবাইল ফোনে নুর মোহাম্মদ আমাকে বলে বলছে, ‘আমি খেলোয়াড়, তুই ফুটবল। আমার লোমছিঁড়িস। এর বিচার না পেলে আমি আত্মহত্যা করবো।

নবাবগঞ্জ থানায় দাখিল করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নুর মোহাম্মদ নুরুকে ১নং ও তার বাবা শহিদুল ইসলামকে ২নং আসামি করে অভিযোগ করা হয়েছে।

নবাবগঞ্জ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বাবুল জানান, ঘটনাটি নবাবগঞ্জের নয়। তা ছাড়া অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ বর্তমানে ঢাকায় রয়েছে। বৃষ্টির কারণে ওই নারীর বাড়িতে যেতে পারিনি।