চাঁদপুরে প্রশাসনের অভিযানের পরও বন্ধ নেই মা ইলিশ শিকার। চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক শ্রেণীর অসাধু জেলে প্রতিদিন অবাধে মাছ শিকার করে চলেছে। জেলেদের আইন অমান্য করার প্রবণতার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার প্রভাবশালী মহলের তৎপরতায় মা ইলিশ নিধন চলছে। প্রজনন মৌসুমের শুরুতে এভাবে আইন অমান্য করায় এ বছর পর্যাপ্ত ইলিশ প্রাপ্তিতে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রোববার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আনন্দবাজার, সফরমালি, খেরুদিয়া, বাংলাবাজার, বিষ্ণুপুর, রাজরাজেস্বরসহ বিভিন্নস্থানে জেলেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকাশ্যে জাটকা ও মা ইলিশ বিক্রি করছে। এদিন নদীতে ১৬টি অভিযান চালিয়ে ১১৮ কেজি মা ইলিশসহ ৪৭ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। এসময় ৯ দশমিক চার লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ৩৯ জন জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। মামলা হয়েছে পাঁচটি। বাকী আট জেলেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা ১৪ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পযর্ন্ত ৬৬টি অভিযান চালিয়ে ১০০ জেলেকে আটক করেছে। এদের মধ্যে ৮৪ জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। মামলা হয়েছে ২৬টির মতো।
ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞার আওতায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, মওজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন অমান্য করলে এক থেকে দুই বছর কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও উভয় দণ্ড দেয়ার বিধান রয়েছে। প্রতিদিন জেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ সমন্বয়ে জেলা টাস্কর্ফোসের ১০টি নদীতে কাজ করে যাচ্ছে।
কিন্তু চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার আশপাশের চরাঞ্চলের দিকে তাকালে মনে হয় যেন মাছ ধরার উৎসব শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ইলিশ শিকারিরা। জেল-জরিমানা এমনকি সরকারি নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে অবাধে চলছে ইলিশ নিধন। এমনকি আইনি ঝামেলা এড়াতে মা ইলিশ বিক্রি ও ধরার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে শিশুদের।
শনিবার দুপুরে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আল মাহমুদ জামানের নের্তৃত্বে পদ্মা-মেঘনায় মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে চাঁদপুর পুরান বাজার রনাগোয়াল এলাকার কাছে এলে জেলা প্রশাসনের স্পিডবোট লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোঁড়া শুরু হয়। তারা নৌকায় করে দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলার প্রস্তুতি নেয়। একপর্যায়ে নিরাপত্তার কথা ভেবে সেখান থেকে চলে আসে অভিযানকারী দল। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী জানান, বিচ্ছিন্ন কয়েকটি স্থানে কিছু অসাধু জেলে মাছ শিকার করছে। নদীতে সর্বদা কাজ করছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। এছাড়া কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, নদীতে পানি বেশি থাকায় খুব সহজেই নদীতে নামা জেলেরা চরের ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে পড়ছে। এছাড়া তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে শুরু করেছে। বেপরোয়া জেলেরা এখন হামলা করতেও দ্বিধা করছে না। তাদের রূপ ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে একটু বাড়তি দায়িত্ব পালন করলে মা ইলিশ নিধন বন্ধ করা সম্ভব হবে।



