নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের বেনাহাটি গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক অরুণ রায়কে (৭২) হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে গ্রেফতারকৃত দুই আসামি। এরা হলোÑ নড়াইলের বেনাহাটি গ্রামের নরোত্তম দত্তের ছেলে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীর ছাত্র রাজু দত্ত (১৯) এবং তার বন্ধু যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার দোগাছি গ্রামের কৃহ বিশ্বাসের ছেলে দিপু বিশ্বাস (১৯)।
দিপু গতকাল দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুল আজাদের আদালতে এবং রাজু গত শনিবার বিকেলে অপর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুল আলমের আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত ছুরি ও চেয়ারসহ অন্যান্য জিনিসপত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার)। তবে আসামিদের আদালতে সোর্পদ করায় তাদের সংবাদ সম্মেলনে হাজির করা হয়নি।
পুলিশ সুপার আরো জানান, গ্রেফতারকৃত দুই আসামি প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, তাদের মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় অরুণ রায়ের ওপর ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে ঘটনার দিন তারা ঘরে প্রবেশ করে কথাবার্তার একপর্যায়ে অরুণকে প্রথমে চেয়ার দিয়ে আঘাত করে। অরুণ রায় জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়লে ছোরা দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অন্য কিছুর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে ঘরের ভেতর থেকে অরুণ রায়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন নিহতের স্ত্রী নিভা রানী পাঠক বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে নড়াইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। অরুণ রায় খুলনার বাটিয়াঘাটা ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০০৮ সালের নভেম্বরে অবসরে যান। স্ত্রী নিভা রানী পাঠকের চাকরিও শেষ পর্যায়ে। দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে প্রকৌশলী এবং মেয়ে চিকিৎসক। করোনাভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধির পর থেকে গ্রামের বাড়ি নড়াইলের বেনাহাটিতে একাই বসবাস করতেন অরুণ রায়। স্ত্রী নিভা রানী ও দুই সন্তান চাকরির সুবাদে বাইরে থাকেন।
এ দিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এগারখান গ্রামবাসীর আয়োজনে গত ২৯ অক্টোবর বিকেলে বেনাহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।



