নোয়াখালী জেলা শহর থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা ও রাতভর আটকে রেখে নির্যাতনের শিকার ওই তরুণীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শনিবার বিকেলে তাকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই তরুণীর সাবেক স্বামী বাপ্পি ছাড়া বাকি আসামিরা এখনো অধরা।

আর্থিক অসঙ্গতির কারণে নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারছে না- এমন খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্লাহ খাঁন ভুক্তভোগীর চাচার বাড়িতে তাকে দেখতে যান। এ সময় মেয়র ওই তরুণীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং তার চিকিৎসার সব দায়িত্ব নেন। এ ঘটনায় জড়িতদের সবাইকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান তিনি।

এদিকে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ওই তরুণীর সাবেক স্বামী ইসমাইল হোসেন বাপ্পি (২৯) গ্রেফতার হলেও অপর তিন আসামি তার বন্ধু রহিম, আরমান ও সাগরকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে ভুক্তভোগী ওই কিশোরী ও তাকে আশ্রয় দেয়া চাচার পরিবারের সদস্যদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বুধবার সন্ধ্যায় ওই কিশোরী কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার সময় সুধারাম মডেল থানার সামনে থেকে একটি অটোরিকশায় তুলে তার সাবেক স্বামী ইসমাইল হোসেন বাপ্পিসহ চারজন মিলে চোখ-মুখ চেপে ধরে ৩০ কিলোমিটার দূরে কবিরহাট উপজেলার নবগ্রামে বাপ্পির বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়ির লোকজন ওইদিন এক আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার সুযোগে ফাঁকা ঘরে রাতে নেশা করে চারজন মিলে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে ব্যর্থ হয়ে তার মুখে সিগারেটের ছ্যাকাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করে তারা। ওই রাতের কোনো এক সময় নেশাগ্রস্ত চারজন ঝিমিয়ে পড়লে ভোরে পালিয়ে চাচার বাড়িতে চলে যান ওই তরুণী।

ছোট বেলায় বাবা হারানো মেয়ের এমন অবস্থায় দিশেহারা মা। বিয়ের পর দীর্ঘ চার বছর নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী তার শিশু সন্তানকে নিয়ে মাইজদী শহরে ভাড়া বাসায় উঠলে সেখানেও তাকে মারধর করে সন্তানকে নিয়ে যায় বাপ্পি।

সুধারাম মডেল থানার ওসি নবীর হোসেন জানান, এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী বৃহস্পতিবার রাতে তার সাবেক স্বামী ইসমাইল হোসেন বাপ্পি, তার বন্ধু রহিম, আরমান ও সাগরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এর পর ওই রাতেই বাপ্পিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ইসমাইল হোসেন বাপ্পি কবিরহাট উপজেলার নবগ্রাম গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কবিরহাট উপজেলার নবগ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করার পর বিচারকের নির্দেশে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার বাকি তিন আসামিকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।