গাজীপুর জেলা প্রশাসকের রেকর্ডরুমের কর্মচারীদের ঘুষ না দেওয়ায় একজন নারী আইনজীবীর সামনে তার স্বামীকে লাঞ্চিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার রেকর্ডরুমের সহকারী কমিশনারের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
ওই আইনজীবীর স্বামী সেবা প্রত্যাশী রোমান সরকার জানান, তিনি একজন প্রবাসী ব্যবসায়ী। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকেন। দেশে ফিরে তিনি পৈত্রিক সম্পত্তির রেকর্ডপর্র্চার জন্য গাজীপুর জেলা প্রশাসকের রেকর্ডরুমে যথাযথভাবে আবেদন করেন। কিন্তু এই অফিসে ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হয় না বিষয়টি তার জানা ছিল না। নির্ধারিত দিনে তাকে পর্চা সরবরাহ না করে রেকর্ড রুমের কর্মচারীরা অহেতুক তাকে ঘুরাতে থাকেন। অবশেষে তিন দিন পর রোববার প্রতি পর্চার জন্য তার কাছে ৫০০ টাকা করে ঘুষ দাবী করেন রেকর্ড রুমের অফিস সহকারী রঞ্জিত দাস। এসময় তিনি ঘুষ দিতে অস্বীকার করলে তাকে ‘দালাল’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়। এতে তার আত্মসম্মানে আঘাত লাগায় তিনি প্রতিবাদ জানান এবং তার স্ত্রী গাজীপুর আদালতের সিনিয়র আইনজীবী জাহানারা বেগমকে সাথে নিয়ে রেকর্ড রুমের সহকারী কমিশনারের কাছে গিয়ে বিচার প্রার্থী হন।
এসময় সহকারী কমিশনারের সামনেই তাকে আবারো দালাল আখ্যা দিয়ে তার প্রতি তেড়ে যান রেকর্ড কিপার শরিফুল ইসলাম। এমনকি সহকারী কমিশনারের কাছে বিচার প্রার্থী হয়েও তিনি পর্চা পাননি। বরং সহকারী কমিশনার মনীষা রানী কর্মকার আবেদীত পর্চাগুলোর জমির মালিক তিনি (রোমান সরকার) কিনা তার প্রমাণ এনে পর্চাগুলো নিয়ে যেতে বলেন। অবশেষে আবেদনকারী রোমান সরকার বাড়িতে গিয়ে এসব জমির মালিকানা সংক্রান্তে তার ওয়ারিশান সনদ এনে রেকর্ড রুমে পুনরায় যোগাযোগ করেন।
রোমান সরকার টানা তিন দিন ধরে পর্যার জন্য হয়রানির অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, ‘প্রতিদিনই দূর দূরান্ত থেকে গ্রামের সাধারণ মানুষগুলো এভাবে হয়রানির শিকার হয়ে পর্চা না পেয়ে খালি হাতে ফেরত যাচ্ছেন। যারা ঘুষ দেওয়ার সিস্টেম জানেন শুধু তারাই রেকর্ড রুমের সেবা পাচ্ছেন। আর যারা ঘুষ দিতে পারছেন না তাদের পর্চা প্রস্তুত হয়নি বলে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে হয়রাণি হতে দেখেছি।’
এদিকে এব্যাপারে রেকর্ড কিপার শরিফুল ইসলাম দোষ স্বীকার করে বলেন, ‘রোমান সরকারের কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি সুরাহা করেছি। তাকে পর্চাগুলো দেওয়া হচ্ছে। ঘুষের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যার কাছে বিচার দিবেন তিনিও জানেন ঘুষ লাগে। আমাদের এই অফিসে দৈনিক খরচ আছে চার হাজার টাকা। সরকার থেকে আমরা কোন সহযোগিতা পাই না। দৈনিক আমাদের চার বান্ডিল কাগজ লাগে। এব্যাপারে লেখালেখি করেও আমরা কোন সহযোগিতা পাই না।’
নিজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গাজীপুর চৌরাস্তায় পৈত্রিক সূত্রে আমি ২৮ বিঘা জমির মালিক। সরকারি চাকরি করায় অফিসে এসে কর্মচারীর মত থাকি। অফিস থেকে বের হলে আমি বিএমডব্লিউ গাড়িতে ঘুরার ক্ষমতা রাখি।’
এদিকে এব্যাপারে সহকারী কমিশনার (রেকর্ড রুম) মনীষা রানী কর্মকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘সাধারণত: কেউ তিনটির বেশি পর্চার জন্য আবেদন করেন না। কিন্তু রোমান সরকার একসাথে ১৪টি পর্চার জন্য আবেদন করায় এগুলো তার নিজের কিনা তা নিয়ে কর্মচারীদের সন্দেহ হওয়ায় ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। পরে তিনি মালিকানার প্রমাণ দেওয়ায় তাকে পর্চাগুলো সরবরাহ করা হয়েছে।’



