কক্সবাজারের আদালতে টেকনাফে কর্মরত এক এনজিও নারী কর্মীর বিরুদ্ধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির পক্ষে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে চাঞ্চল্যকর মানহানি মামলাটি করা হয়। আদালত আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে মামলার আরজিতে উল্লিখিত সাক্ষীদের জবানবন্দী নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।
বিজিবির পক্ষে মামলার বাদি হয়েছেন টেকনাফ বিজিবি-২ ব্যাটেলিয়নের দমদমিয়া তল্লাশি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত জেসিও নায়েব সুবেদার মোহাম্মদ আলী মোল্লা। অপর দিকে মামলাটিতে বিজিবির বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ এনে আসামি করা হয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা-এনজিও ব্লস্টের নারীকর্মী ফারজানা আকতারের (২৮) বিরুদ্ধে।
বাদি মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে ওই এনজিও নারী কর্মী অহেতুক উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে গণধর্ষণের মতো মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছেন। যাতে বিজিবির মতো একটি বাহিনীর ভাবমর্যাদাকে মারাত্মকভাবে আঘাত হেনেছে। এজন্যই বিজিবি আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
মামলার বাদির আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুল করিম ও অ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন আহমদ জানান, আসামি ফারজানা আকতার কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নে এনজিওটির কর্মী হিসেবে কর্মরত। তিনি অন্যান্য দিনের মতো গত ৮ অক্টোবর সকালে হ্নীলা থেকে সিএনজি চালিত ট্যাক্সিতে চড়ে টেকনাফ উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন। দমদমিয়া বিজিবি তল্লাশি ফাঁড়িতে সিএনজিটি থামানো হয়। সিএনজির পাঁচজন যাত্রীর মধ্যে অপর চারজন যথারীতি নেমে নিয়মমাফিক তল্লাশির কাজ সারেন। কিন্তু ওই নারী নিজেকে ব্লাস্ট এনজিওর কর্মী পরিচয় দিয়ে দাম্ভিকতা দেখিয়ে তল্লাশি এড়ানোর চেষ্টা করতে থাকেন। এতে বিজিবি সদস্যদের কাছে সন্ধিগ্ধ হন তিনি।
পরে বিজিবির নারী সদস্যরা এসে তাকে সিএনজি থেকে নামিয়ে তল্লাশি করেন। এতে নারীকর্মী ফারজানা আকতার বিজিবির ওপর ক্ষুব্ধ হন। তিনি ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে ফাঁড়ির পুরুষ সদস্যরা তাকে গণধর্ষণ করেছে মর্মে অভিযোগ তোলেন। অথচ তল্লাশি ফাঁড়িতে ওই দিনের সিসি ক্যামেরার যাবতীয় ফুটেজ পরীক্ষা করেও এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা মিলেনি। এমনকি তিনি ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে টেকনাফ থানায় বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করতে যান। কিন্তু পুলিশ মামলায় মেডিক্যাল সনদ দরকার জানালে ওই নারী কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আসেন। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শাহীন আবদুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত একটি মেডিক্যাল বোর্ড তাকে পরীক্ষা করে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে সনদ প্রদান করেন। তবে এ বিষয়ে আসামি নারী এনজিওকর্মী ফারজানা আকতারের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।