নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ওয়ারেন্টের আসামি ধরতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন তিন পুলিশ সদস্য। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় থানার জালকুড়ি পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকার লোকজনকে জড়ো করে ডাকাত আখ্যা দিয়ে পুলিশ সদস্যদের মারধর করা হয়। এ ঘটনায় ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেনÑ এ এস আই নুরুজ্জামান, কনস্টেবল মো: কহিনুর ও মমিনুর রহমান।
পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলোÑ আমিনুল ইসলাম (৫৫) শামসুজ্জামান (২৯) ওয়াসিম (২৮) ও মারুফ খান (২৯)। হামলার শিকার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো: নুরুজ্জামান বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে বাকিদের অজ্ঞাত রেখে ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ।
মামলার এজাহারে এএসআই নুরুজ্জামান উল্লেখ করেন, সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি কড়ইতলা এলাকার আবুল হোসেন মন্টুর ছেলে বিল্লাল হোসেন ওরফে বিল্লাল ডাকাতের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আসামি বর্তমানে জালকুড়ির পশ্চিমপাড়া এলাকার আমিনুল ইসলামের বাড়িতে অবস্থান করছে খবর পেয়ে পরোয়ানা তামিল করতে কনস্টেবল মো: কহিনুর ও মমিনুর রহমানকে সাথে নিয়ে সেখানে যান। সাথে নাসির নামে স্থানীয় এক নৈশপ্রহরীও ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এজাহারে এএসআই নুরুজ্জামান আরো বলেন, আমিনুল ইসলামের বাড়ির সামনে গিয়ে বাইরে থেকে দরজা খুলতে বলা হয়। দরজা না খুলে ভেতর থেকে পুলিশের উদ্দেশে অশালীন কথাবার্তা বলতে থাকে। পরে ওই বাড়ির মালিক আমিনুল ইসলাম স্থানীয় মসজিদে ফোন করে জানায় তার বাড়িতে ডাকাত পড়েছে। এই খবর মসজিদের মাইকে ঘোষণা করা হলে এজাহারনামীয় আসামিসহ আরো ৩০-৪০ জন স্থানীয় লোকজন জড়ো হয় সেখানে। পরে পুলিশের পোশাক ধরে টানাহেচড়া করে এবং লাঠি দিয়ে এলোপাতারি মারধর করা হয়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন জানান, ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে। এই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হবে। হামলার ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।