পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে পালাতে গিয়ে কবির আহম্মেদ (৪৮) নামের ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কবির ওই ওয়ার্ড চৌকিদার বাড়ির মৃত মোখলেসুর রহমানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় ওয়ারেন্ট ছিল। রোববার দিবাগত রাত ১২টার সেনবাগ থানার এসআই মো. আল আমিনের নেতৃত্বে পুলিশ ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করতে বসন্তপুর বাজারে গিয়ে কবিরের চায়ের দোকানের সামনে সিএনজি দাঁড় করিয়ে কবিরকে নাম জিজ্ঞাসা করে।
এ সময় কবির পুলিশের কাছে নিজের নাম বলেন মাইন উদ্দিন। এতে পুলিশের সন্দেহ হলে তারা বাজারের নাইটগার্ড আবদুল জলিলকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কবিরকে মাইন উদ্দিন হিসাবে শনাক্ত করেন। পরে কবির বাজারের পাশে তার বাড়ি পুলিশকে দেখিয়ে দিয়ে দ্রুত পাশের ইদার বাড়ির সুপারী বাগানে পালিয়ে আশ্রায় নেন এবং সেখানে তিনি স্ট্রোক করে মারা যান। সোমবার সকালে ওই বাড়ির ছোট ছেলেরা বাগানে সুপারী কুড়াতে গিয়ে কবিরের লাশ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দিলে ঘটনা জানাজানি হয়।
রাতে অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া সেনবাগ থানার এসআই মো. আল আমিন জানায়, সোমবার রাতে মামলায় ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে পুলিশ ফোর্স নিয়ে কবিরকে গ্রেফতার করতে তার বাড়িতে যান। তবে ওই সময় তিনি বাড়িতে না থাকায় পুলিশ তাকে কোর্টে আত্মসমার্পন করার জন্য স্ত্রীসহ পরিবারের নিকট বলে চলে আসে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন বললে তিনি লোক মুখে কবিরের মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছেন তবে কী কারণে মৃত্যু হয়েছে তিনি বলতে পারেননি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সেনবাগ থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) আবদুল বাতেন মৃধা জানান, কোনো পুলিশ তার বাড়িতে যায়নি। কবিরের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পরপরই সেনবাগ থানার এসআই গৌরসাহা ও এসআই নুর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য উদ্ধারের চেষ্টা করলে পারিবার ও স্থানীয় লোকজন ময়নাতদন্ত করাতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়।



