পদ্মা সেতুর ক্ষতিপূরণের প্রায় দেড় কোটি টাকা অভিনব কায়দায় মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এল এ শাখার এক দালাল হাতিয়ে নিয়েছে অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত নূর মোহাম্মদ ফকির। বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদারীপুর শহরের এক আইনজীবীর চেম্বারে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নূর মোহাম্মদ ফকির এক লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন,পদ্মা সেতু বহুমুখী প্রকল্পের জন্য সরকার তার পৈতৃক সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে। সরকারি সমীক্ষা শেষে ওই সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ৪৮ লাখ ১২ হাজার ৪৩৮ টাকা। ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সমপরিমাণ টাকার বিপরীতে একটি চেক এল এ শাখার সার্ভেয়ার মোস্তাফিজুর রহমান সম্পত্তির মালিকের হাতে না দিয়ে প্রতারক চক্রের মূল হোতা রুবেল হাওলাদারের হাতে দেয়। প্রতারক রুবেল ব্যাংকে যাওয়ার কথা বলে নূর মোহাম্মদ ফকিরকে শহরের মাতৃভূমি রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে তার কাছে খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। এ সময় আরো কয়েকজন দালাল সেখানে উপস্থিত হয়। নূর মোহাম্মদ ফকিরের কাছে নগদ টাকা না থাকায় রুবেল ও তার সঙ্গীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে নূর মোহাম্মদের কাছ থেকে দুটি ব্লাঙ্ক চেকে (চেক নং ৪৫০৯৬২৬ ও ৪৫০৯৬২৭) স্বাক্ষর রেখে হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে তাড়িয়ে দেয়। পরে ইস্যুকৃত চেক ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, মাদারীপুর শাখায় ১১ সেপ্টেম্বর নূর মোহাম্মদ ফকিরের হিসাব ১১৮৫০০৩৩৭১৮২৮ নম্বরে জমা দিয়ে রুবেল হাওলাদার ওই দিনই তার হিসাব নম্বরে ট্রান্সফার করে নেয়। বিষয়টি ব্যাংক স্টেটমেন্টে উল্লেখ করা রয়েছে। এ ঘটনার পর টাকার মালিক নূর মোহাম্মদ ফকির ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসা নেন। পরে একটু সুস্থ হয়ে চলতি বছর ৬ সেপ্টেম্বর ও ২০ সেপ্টেম্বর টাকা উদ্ধারের জন্য মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে দু’টি আবেদন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নূর মোহাম্মদ ফকির অভিযোগ করে আরো বলেন, সার্ভেয়ার মোস্তাফিজুর রহমান প্রতারক রুবেল হাওলাদার গং যোগসাজশে আমার টাকা আত্মসাৎ করেছে। তা ছাড়া ব্যাংক ম্যানেজার এই বিপুল অঙ্কের টাকা আমাকে না জানিয়ে কোনো নিয়মনীতির ভিত্তিতে অন্যের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করলেন?
এ দিকে এল এ শাখার সার্ভেয়ার মোস্তাফিজুর রহমানকে এ ঘটনার জের ধরে এল এ শাখা থেকে রাজৈর উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। তবে প্রশাসনিক কারণে তাকে বদলি করা হয়েছে বলে প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়।
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড মাদারীপুর শাখার ম্যানেজার আবুল খায়ের বলেন, কোনো বড় অঙ্কের টাকা প্রদান করতে হলে চেকদাতার সাথে যোগাযোগ করা কর্তব্য। কিন্তু আমি যোগাযোগ না করে চেক বাহককে টাকা দিয়ে দেই। অনেক দিন আগের ঘটনা মনে নেই।
এ ব্যাপারে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, আমি এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি।