নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জমি লিখে না দেয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় ঘর-বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বৃদ্ধ ও শিশুসহ ছয়জন আহত হয়েছে। শনিবার রাতে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের নয়াগাঁও গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের নয়াগাঁও গ্রামের আলাউদ্দিনের সাথে একই এলাকার সাহাবুদ্দিনের দীর্ঘ দিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জের ধরে শনিবার রাতে আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে ইয়ানবী, ইলিয়াস, বুলবুল, ফয়সাল, ফেরদৌস, দ্বীন ইসলাম, রিফাত, জুয়েল ও রাকিবসহ ২০-২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, দা, টেটা, বল্লম, রামদা, হকিস্টিক, লোহার রড নিয়ে সাহাবুদ্দিনের বাড়িতে হামলা করে।
হামলাকারীরা বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করতে থাকে। একপর্যায়ে সাহাবুদ্দিনের সাটোর্ধ্ব শ্বশুর মো: সাত্তার ও আছমা বেগম তাদের বাধা দিলে তাদের পিটিয়ে আহত করে। একপর্যায়ে আকলিমা, শান্ত ও কবিরকে মারধর করে।
এসময় আকলিমার ১১ মাস বয়সি শিশু সন্তান সাইদকে কোল থেকে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেয় হামলাকারীরা। পরে ঘরে ঢুকে আলমারিতে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণলংকার লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠে। এসময় আহতদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে চলে যায়।
এ ঘটনায় আহত আকলিমা বেগম শনিবার রাতে সোনারগাঁও থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আহত আকলিমা বেগম জানান, ‘আলাউদ্দিন প্রভাবশালী হওয়ার কারণে টাকার দাপটে এলাকার মানুষ পণবন্দী হয়ে পড়েছেন। জমি লিখে না দোয়ায় অতর্কিতভাবে আমাদের বাড়িতে রাতের বেলায় হামলা করে আমার বাবা, মা ও শিশু সন্তানসহ ছয়জনকে পিটিয়ে আহত করে।’
অভিযুক্ত আলাউদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সাহাবুদ্দিনের পরিবার দ্বীন ইসলাম হত্যা মামলার আসামি। এ মামলার আপস মীমাংসার জন্য আমাদের হুমকি দিয়ে চাপ প্রয়োগ করে আসছে। মিমাংসার কথা অনুযায়ী টাকা দেয়ার কথা থাকলেও তারা তালবাহানা করছে। এ বিষয়টি জানতে চাওয়ায় আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়।’
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রফিকুল ইসলাম জানান, হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



