দিনাজপুরের ফুলবাড়ীসহ পুরো জেলায় কয়েক দিন ধরে সারা দিন সূর্যের দেখা নেই। ঘন কুয়াশায় শীতের মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। ঘন কুয়াশার সাথে হিমেল বাতাসে জনজীবন কিছুটা থমকে দাঁড়িয়েছে। এতে সব চেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া স্বল্প আয়ের মানুষ।
সন্ধ্যায় পর থেকেই কুয়াশা বেড়ে যাওয়ায় রাতে শীতের মাত্রা বেড়ে যায়। রাত বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশা অন্ধকারে পরিণত হচ্ছে। কয়েক হাত দূরের কিছু দেখা যাচ্ছে না। তাই রাত যত গভীর হয় শীতের মাত্রা তত বৃদ্ধি পায়। ভোর বেলা লাল আভা নিয়ে ভেসে উঠা সূর্য যেন মুখ মেলে তাকাতে পারছে না।
গত শুক্রবার সকাল থেকে দিনাজপুরে হঠাৎ করে ঘন কুয়াশা পড়তে শুরু করে। তাপমাত্রা নেমে যায়, নেমে আসে তীব্রশীত। বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও আবার দুপুরের পর থেকে তাপমাত্রা কমতে থাকে। সন্ধ্যার পর থেকেই কুয়াশা বাড়তে থাকে এবং তাপমাত্রা কমে আসতে শুরু করে। কুয়াশা এত বেশি যে সড়কে দিনের বেলাই হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। খেটে খাওয়া মানুষ জীবিকার তাগিদে সকালে প্রচণ্ড কুয়াশা ও শীত উপেক্ষা করে ঘর থেকে বের হয়। শীত যেনো এ জনপদের দরিদ্র মানুষের জন্য নিয়ে আসে দুর্ভোগ।
হঠাৎ এই শীতে সাধারণ মানুষ যেন জুবুথুবু হয়ে পড়েছেন। একদিকে করোনার থাবায় অর্থনৈতিক সঙ্কট তার ওপর প্রচণ্ড শীত। শীত নিবারণের জন্য লেপ তোষকের দোকানে ভিড় করছে মানুষ। কৃষকেরা চেষ্টা করছেন তাদের গরু-ছাগলকে চটের তৈরি জামা দিয়ে শীতের হাত থেকে রক্ষা করতে। শীত বাড়ার সাথে পিঠার কদর বেড়ে গেছে। সকাল-সন্ধ্যা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভাপা-চিতইসহ হরেকরকম পিঠার পসরা নিয়ে বসছেন নারী-পুরুষরা। উনুনের তাপ নেয়ার পাশাপাশি পিঠাও খাচ্ছে মানুষ।
ভোরের দিকে ঘন কুয়াশার সাথে সাথে হিমেল হওয়া যেন শীতের মাত্রা আরো বৃদ্ধি করে দেয়। কুয়াশা ও শিশির কণা শীতকে আরো স্থায়ী করছে। সকাল থেকে সারা দিন মোটাকাপড় পরে থাকতে হচ্ছে। শীত বেড়ে যাওয়ায় শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এতে করে তারা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অন্য দিকে গৃহপালিত পশু লালন পালনে সমস্যায় পড়েছেন।
স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা বলেন, কয়েক দিন ধরে সারা দিন সূর্য দেখা যায়নি। তাই শীতের মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। শীতের কারণে হাত-পা কনকন করছে। আমাদের মতো বয়স্কদের সমস্যা একটু বেশি। ফজরের সময় চার দিক কুয়াশায় ঢাকা ছিল।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন জানান, উপজেলা প্রশাসন থেকে ইতোমধ্যেই দুস্থ ও অসহায়দের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার স্বরূপ কম্বল বিতরণও শুরু হয়েছে। প্রশাসনও সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। কেননা শীতে করোনার প্রকোপ বেড়ে চলেছে। তাই করোনার হাত থেকে রক্ষা পেতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সে কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে বারবার মাক্স পরিধানের বিষয়ে বলা হচ্ছে।