মহান বিজয় দিবসে গাজীপুরে ঈমাম-খতিব ও ওলামা মাশায়েখ সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, ধর্মের সাথে স্বাধীনতার চেতনার কোনো সংঘর্ষ নাই। তেমনি দাঁড়ি-টুপির সাথে রাজাকারের কোনো সম্পর্ক নাই। আলেমদের ভালবাসতে শিখুন, ভালবাসা পাবেন। মৌচাকে ঢিল মারতে যাবেন না। বামপন্থী একটি গোষ্ঠী চাচ্ছে আলেমদের সাথে সরকারের যুদ্ধ বাজিয়ে দিতে।

বুধবার উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ঈমাম-খতিব ও ওলামা মাশায়েখ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। সমাবেশে সভাপত্বি করেন গাজীপুর সিটি মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম। সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে স্থানীয় বোর্ড বাজার কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুর রহিম আল-মাদানী বলেন, একজন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বলছি, মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতার চেতনার সাথে ইসলামের কোনো সাংঘর্ষিক সম্পর্ক নেই। রাজাকারের তালিকা মিলিয়ে দেখুন; কয়জন রাজাকারের দাঁড়ি-টুপি আছে। কাজেই রাসুলের (সা.) সুন্নত নিয়ে কটাক্ষ করে আলেমদের কলিজায় আঘাত দিবেন না, মৌচাকে ঢিল মারবেন না।

তিনি বলেন, দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে জায়েয বা নাজায়েযের প্রসঙ্গ আসলে আলেম-ওলামাদের কাছ থেকে ফতোয়া জেনে নিন, বামপন্থী বুদ্ধিজীবীদের কাছ থেকে ফতো নিবেন না। ওরা চাইবে আলেমদের সাথে সরকারের যুদ্ধ লাগিয়ে দিতে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল মুক্তিযোদ্ধার কাছে আমরা ঋণি, মহান আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদা দান করুন। তাদের জন্য আমরা এমন কিছু করবো যাতে তাদের আত্মা কবরে শান্তি পায়। দোয়া ও সাদকা হচ্ছে মরহুমদের প্রতি আমাদের হক। এমন কিছু করবো না যাতে কোনো কবরবাসী তা কামনা করেন না। তিনি ইসলামী মাহফিল অবাধ করে দেওয়ার দাবী জানিয়ে বলেন, আলেমরা মানুষের আত্মার খুরাক দেয়। রাষ্ট্রের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে যেখানে বলবেন আমরা সেখাইে যাব। তিনি দ্বীনের বৃহত্তর স্বার্থে সকল বেধাবেধ ভূলে গিয়ে সকল দল ও কওমী, আলিয়া, ওহাবী, সুন্নী সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম পরিকল্পিত নগরি গড়তে আলেমদের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, আলেমরা হলেন আমাদের ধর্মীয় নেতা, তাদের ছোট করে, অপমান করে কথা বলবেন না। সেদিকে সবার নজর রাখতে হবে। তিনি বলেন, যেখানে আলেম ওলামা আছে সেখানে শান্তি আছে। যেখানে আলেম ওলামাদের মধ্যে ঐক্য আছে সেখানে শান্তি আছে। আমরা আলেমদেরকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকতে চাই। উপযুক্ত কারণ প্রদর্শন ছাড়া গাজীপুর মহানগরিতে কোনো ইমামকে কেউ চাকরিচ্যুত করতে পারবেন না। গাজীপুর মহানগরে যেসকল ঈমাম সাহেবদের নিজস্ব জায়গা আছে, কিন্তু বাড়ি করার সামর্থ নাই তাদেরকে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হবে। প্রতি বছর আলেমদের টিম করে হজ্বে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, এই মহানগরে ২৫ লাখ লোকের বাস। যা বিশ্বের অনেক শহরে নেই। দেশের সকল জেলার মানুষ এই নগরিতে এসে চাকরি করছেন। তারা আমাদের মেহমান। সবাইকে নিয়ে আমরা একটি বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে গাজীপুর মহানগরকে পরিকল্পিত গ্রীনসিটি ও ক্লিনসিটি করতে চাই। দেশের অন্যান্য শহরকে দেখিয়ে দিতে চাই। আমি ইতিমধ্যে গ্রিনসিটি-ক্লিনসিটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। টঙ্গী থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত বারো কিলোমিটার পথ যেতে দুই ঘণ্টা সময় লাগে। যেখানে বিশ্বের অন্যান্য দেশে সময় লাগে মাত্র আট মিনিট। যানজটের কারণে আমাদের প্রত্যেকের জীবন থেকে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

মেয়র বলেন, জাতির পিতার একটি মাত্র ডাকে বীর বাঙালি সেদিন স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। যে নেতার এক ডাকে লাখ লাখ মানুষ একত্রিত হয়ে জীবনের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধ করতে পারে, নিশ্চয় সে নেতাকে আল্লাহই পাঠিয়েছেন। অসম্ভব রকম ক্ষমতা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে আল্লাহ পাঠিয়েছিলেন। সুতরাং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কেউ কটূক্তি কিংবা ব্যঙ্গ করে কথা বলবেন না। এতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবেন।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আয়োজনে আড়াই হাজারের বেশি ইমাম-খতিম-মোয়াজ্জিন এ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন, মাওলানা লেহাজ উদ্দিন, মুফতি নূরুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুর রহিম আল-মাদানীসহ বিভিন্ন মসজিদের ঈমাম ও খতিবগণ। সমাবেশে মেয়র বলেন, মহানগরির ২৫শ’ ঈমাম ও খতিবকে সম্মানি বাবদ ১৪ হাজার টাকা করে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে চেকের মাধ্যমে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে এই সম্মনির পরিমাণ আরো বাড়ানো হবে।