বাবার স্বপ্ন ছিল একটি ফলের বাগান করা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে রামদিয়া বিএমবিসি উচ্চবিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক আবদুস সালাম শেখ তার বড় ভাই ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুর রউফ শেখের সার্বিক সহযোগিতায় গড়ে তুলেছেন স্বপ্ন চূড়া নার্সারি অ্যান্ড এগ্রো ট্যুরিজম। তারা দু’জন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কাউন্নাইর গ্রামের মরহুম ঘুড়ান শেখের ছেলে।
স্কুল শিক্ষক আবদুস সালাম শেখ জানান, তার বাবার স্বপ্ন ছিল এডভান্স কৃষি খামার গড়ে তোলা। সে লক্ষ্য নিয়েই বাবার স্বপ্ন পূরণে রামদিয়া বিএমবিসি উচ্চবিদ্যালয়ের পেছনে তার বসতবাড়ি এখন ‘স্বপ্ন চূড়া নার্সারি অ্যান্ড এগ্রো ট্যুরিজম’। এক একর জায়গায় কমলা চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বরিশালের সরূপকাঠি থেকে ১৮৩টি কমলার চারা এনে দুই বছর আগে রোপণ করেন। এ বছর প্রতিটি গাছে ৫০০ থেকে এক হাজার কমলা ধরেছে। কমলার এ ফলনে তিনি খুবই আশাবাদী। এ এলাকায় বিদেশ থেকে কমলা আমদানি না করলেও চলবে। প্রতিটি গাছে ৩০-৩৫ বছর পর্যন্ত ফল ধরবে। ইতোমধ্যে এ ফলনের সংবাদ শুনে বিভিন্ন জেলার আগ্রহী চাষিরা ভিড় জমাচ্ছেন। তিনি এ বছর বাগানের উৎপাদিত কমলা জনগণের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। এ ছাড়াও পাঁচ একর জমি লিজ নিয়ে এক একর জমিতে থাই পেয়ারা, ৪২ শতাংশ জমিতে মাল্টা, সাড়ে তিন একর জমিতে নার্সারি গড়ে তুলেছেন। গত বছর এ নার্সারি থেকে ১৮ লাখ টাকার চারা বিক্রি করেছেন। চারা বিক্রির সমুদয় টাকাই লেবার খরচ ও জমি লিজে ব্যয় হয়েছে। এ বছর ৫০ লাখ টাকার চারা বিক্রির টার্গেট রয়েছে। বর্তমানে ২১ জন কর্মচারী প্রতিদিন কাজ করছেন।
এই নার্সারিতে ব্যানানা ম্যাংগো, কিউজুয়াই, থাই বারোমাসি, গৌরমতি, কিং অফ চাকাপাত, নারিকেল কেরালা, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, শরিফা বারোমাসি সাদা ও লাল, জাম্বুরা থাই সাদা ও লাল, বারোমাসি কাঁঠাল, বারোমাসি কদবেল, কাশ্মিরি বরই, বল সুন্দরী, সিডলেছ, বারোমাসি চায়না লেবু, থাই বারোমাসি লেবু, সিড লেছ কাটাবিহীন লেবু। উন্নত জাতের দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন ফলদ ও ফুলের নার্সারি গড়ে তুলেছেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের সিলেট অঞ্চল ও বিদেশ থেকে কমলা আমদানি করতে হয়। আমার এ উদ্যোগ বিভিন্ন অঞ্চলে কমলা চাষের সম্প্রসারণ ঘটানো। এতে কমলা আমদানি করতে হবে না। বরং রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। আমার এ উদ্যোগে বেকার সমস্যার সমাধান ও তরুণ প্রজন্ম এ নার্সারি দেখে চাষে আগ্রহী হবে। কমলার বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন অসংখ্য দর্শনার্থী। এ সময় বাগান দেখতে আসা বালিয়াকান্দি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আবু দারদা বলেন, কমলার এমন আবাদ এ অঞ্চলে হয়েছে খবর পেয়ে দেখতে এসেছি। আমার কাছে খুবই ভালো লাগলো। সবারই এ ধরনের ব্যতিক্রমী চাষে এগিয়ে আসা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।