গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে চুয়াডাঙ্গায় ফেরার পথে ট্রেন থেকে শাওন (২৫) নামের এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। তবে ট্রেনের দরজায় রক্তের ছাপ দেখা গেছে বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা। বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী আন্তঃনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে।

এ দিকে বিষয়টি তদন্তের জন্য শাওনের সাথে থাকা অবুন কাঠান ও তার স্ত্রীকে মির্জাপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারের হেফাজতে রাখা হয়। খবর দেয়া হয়েছে নিখোঁজ শাওনের পরিবারের সদস্যদের। শাওন চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের মিশনপাড়ার খ্রিস্টান ধর্মালম্বী শউল নওদার ছেলে। তার সাথে থাকা অবুন কাঠান ও তার স্ত্রীর বাড়িও একই এলাকায়। এ ঘটনার পর মির্জাপুর রেলওয়ে স্টেশনে প্রায় এক ঘণ্টা যাত্রাবিরতি শেষে খুলনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি।

একই ট্রেনের যাত্রী ব্রাক কর্মকর্তা শরিফ বলেন, জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ‘চ’ বগিতে ওঠেন শাওন, অবুন কাঠান ও তার স্ত্রী। ট্রেন ছাড়ার কিছুক্ষণ পর শাওন তার সিট থেকে উঠে মোবাইলে কথা বলতে বলতে দরজার দিকে যান। অনেকক্ষণ ধরে ফিরে না এলে সন্দেহ হওয়ায় সবাই তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। শাওনকে না পেয়ে বিষয়টি ট্রেনের দায়িত্বরত স্টাফদের জানানো হয়। মির্জাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনটি থামলে সবগুলো বগিতে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে শাওন যেই দরজায় সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, সেখানে রক্তের ছিটেফোঁটা পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে ট্রেনযাত্রী ও স্টাফদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। পরে বিষয়টি স্টেশন মাস্টারকে জানালে শাওনের সাথে থাকা দু’জনকে হেফাজতে নেন স্টেশন মাস্টার। পরে প্রায়ই এক ঘণ্টা পর ট্রেনটি আবার যাত্রা শুরু করে।

তিনি আরো বলেন, যাত্রীরা কথা বলছিল যে শাওন দরজার সামনে মাথা বের করে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় কেউ তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে, নাকি মাথা বের করার কারণে সিগন্যাল খুঁটির সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলেন।

এ দিকে শাওনের সাথে থাকা অবুন কাঠান বলেন, ‘জয়দেবপুর থেকে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে আমি, আমার স্ত্রী ও আমার বড় ভাইয়ের শ্যালক ট্রেনে উঠি। কিছুক্ষণ পর শাওনের একটি ফোন এলে তিনি ট্রেনের দরজার কাছে চলে যান। অনেকক্ষণ ধরে না ফেরায় তাকে ফোন দেই, কিন্তু তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি সন্দেহ হলে আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করি। পরে তাকে না পেয়ে বিষয়টি ট্রেনে থাকা দায়িত্বরত স্টাফদেরকে জানাই। তারাও সব বগিতে খুঁজেও শাওনকে পায়নি। তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা তো নিজের সিটে বসেছিলাম। দরজার কাছে আরো লোক ছিল। পরে আমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেছি। তারা বলল যে মাথা বের করে ফোনে কথা বলছিলেন শাওন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, মোবাইলে কথা বলার সময় কেউ তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। না হয় মাথা বের করার কারণে সিগন্যাল খুঁটিতে ধাক্কা লেগে পড়ে গেছে। পরে ট্রেনে থাকা পুলিশ সদস্যরা আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মির্জাপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারের কাছে হস্তান্তর করে।’

মির্জাপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার নাজমুল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিখোঁজ শাওনের সাথে থাকা লোকজনের অভিযোগ, শাওন ট্রেন থেকে পড়ে গেছেন। ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে, এটা মির্জাপুর স্টেশন এলাকার বাইরে। আর যেখানে পড়েছে, ওই এলাকা মৌচাক লোকাল স্টেশনের কাছাকাছি। জয়দেবপুর-মির্জাপুর স্টেশনের মাঝামাঝি হওয়ায় আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। ইতোমধ্যে শাওনকে খোঁজার জন্য পুলিশ কাজ করছে। এ ছাড়াও শাওনের পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়া হয়েছে। রাতেই তারা রওনা দিয়েছে। ঘটনা তদন্তের জন্য শাওনের সাথে থাকা আবুন কাঠান ও তার স্ত্রীকে ট্রেন থেকে নামিয়ে হেফাজতে নেয়া হয়েছে।’

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি এখনো কোনো কিছু শুনিনি। যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাইলে এটি দুঃখজনক। আমি এখনি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখব।’