মানিকগঞ্জের সিংগাইরে এক প্রবাসীর বসতবাড়িতে বসেছে প্রায় দু’ডজন মৌচাক। এ যেন বাড়ি নয় মধুর হাড়িঁ। এ বাড়ি থেকে প্রতিবছর দেড় থেকে দু’মণ মধু আহরণ করা হয়।
সিংগাইর উপজেলার জামশা ইউনিয়নের বাস্তা-মাটিকাটা গ্রামের প্রবাসী নূরুল হকের বসতবাড়ির বিল্ডিংয়ের চারদিকে বসেছে এ মৌমাছির মেলা। গত পাঁচ বছর যাবত শীত মৌসুমে মৌমাছিরা এসে ওই বিল্ডিংয়ে মৌচাক তৈরি করে মধু আহরণ করে। প্রায় পুরো বছর ধরেই ওই বাড়িতে কম-বেশি মৌমাছি থাকে।
জানা গেছে, সারাদিন মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত থাকে ওই এলাকা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চারদিকে মৌ-মৌ গন্ধ ছড়িয়ে উড়ছে মৌমাছির দল। বিল্ডিংয়ের চারপাশে প্রায় দু’ডজন চাক গড়ে তুলেছে মৌমাছিরা। বিল্ডিংয়ের পূর্ব-পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশের পুরোটাই যেন দখলে নিয়ে বাসা বেঁধেছে মৌমাছিরা। ওই বাড়ির পশ্চিম পাশ ঘেষে রাস্তায় চলাচলকারী লোকজনও গাড়ি থামিয়ে মৌচাকগুলো দেখে যাচ্ছেন।
বাড়ির মালিক প্রবাসী নূরুল হকের স্ত্রী বলেন, ২০১৫ সাল থেকে আমাদের বাড়ির এ বিল্ডিংয়ে ২৫-৩০টি মৌচাক বসে। এবারো ২১টি মৌচাক তৈরি হয়েছে। এসব মৌমাছি আমাদের কোনো ক্ষতি করে না।
স্থানীয় বাস্তা চরের মৌয়াল আমোদ আলী বলেন, চার-পাঁচ বছর ধরেই ওই বাড়ির বিল্ডিংয়ে মৌমাছির চাকগুলো কেটে আমি মধু নামাই। অন্য বছর ৩০-৩২টি চাক বসলেও এবার বসেছে ২১টি। তাই অন্যবারের তুলনায় এবার মধু কম। আগেরবার প্রতি কাটায় ২৮-৩০ কেজি মধু তুললেও এবার পাওয়া যাচ্ছে ২০-২২ কেজি। বাড়ির মালিককে অর্ধেক দিয়ে বাকিটুকু আমি নিয়ে যাই।
এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ টিপু সুলতান সপন বলেন, সম্ভবত ওই বাড়িতে রানী মৌমাছির জন্ম বা উৎপত্তি হয়েছিল, তাই প্রতি বছর এসে বাসা বাঁধে। তিনি আরো বলেন, এ এলাকায় জমিতে অধিক সরিষার আবাদ হওয়াতে ফুলের পরিমাণও বেশি। মধুর একমাত্র উৎস ফুল তাই মৌমাছিরা এখানেই আসে।



