লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভার দুটি ভোট কেন্দ্রে দুই কাউন্সিলর সমর্থকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রায় শতাধিক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। এ সময় কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকরা রামগঞ্জ-চাটখিল সোনাইমুড়ি সড়কে গাছ ফেলে অবরোধ ও বিক্ষোভ করে।

শনিবার দুপুরে পৌরসভার ছয় নম্বর ওয়ার্ডের কাজিরখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্র দখল নিয়ে দুই কাউন্সিলর প্রার্থী আনোয়ার হোসেন জিতু দেওয়ান ও মামুনুর রশিদের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া এক নম্বর ওয়ার্ডে সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার কেড়ে নেয়ার কারণে কামরুল হাসান ফয়সাল ও ডালিম প্রতীকের শাখাওয়াত হোসেন রাজুর সমর্থকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে বিজিবির সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ সময় আহত হয়েছে কমপক্ষে ২৫ জন। আহতদের রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শতাধিক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পুলিশ। এর কিছুক্ষণ পর টামটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রেও দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দফায় দফায় হামলা করা হয় গাজর প্রতীকের প্রার্থী মামুন ভূঁইয়া সমর্থকদের ওপর। এ সময় তার বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার ছয় নম্বর ওয়ার্ডের উটপাখি প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী আনোয়ার হোসেন জিতু দেওয়ান তার সমর্থকদের নিয়ে পশ্চিম কাজিরখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্র দখল করতে এসে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পাঞ্জাবী প্রতীকের প্রার্থী মামুনুর রশিদ আকন্দের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে জিতু দেওয়ানের অনুসারীরা এলোপাথাড়ি গুলি ও মারধর শুরু করলে এতে আলমগীর হোসেন, কামাল হোসেন ও জামসেদসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আহত হয় আরো ২০ জন। এ ছাড়া টামটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই অভিযোগে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে আরো পাঁচজন আহত হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ কয়েকজন আহত হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি ছুঁড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।