নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় শীতের তীব্রতা হানা দিয়েছে পানের বরজে। ফলে সবুজ পানপাতা ঝরে পড়ে যাচ্ছে হলুদ হয়ে। উপজেলার প্রায় প্রতিটি পানের বরজেই দেখা দিয়েছে এ সমস্যা।
জানা যায়, মনোহরদী উপজেলার মোট ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে লেবুতলা, কৃষ্ণপুর, খিদিরপুর, চরমান্দালিয়া, চালাকচর, শুকুন্দী ও দৌলতপুর ইউনিয়নে পান চাষ হয় সবচেয়ে বেশি। যুগ যুগ ধরে এই এলাকার কৃষকরা শুধু পান চাষ করেই তাদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। স্বাদের দিক দিয়ে অতুলনীয় হওয়ায় আশপাশের কমপক্ষে ২০ উপজেলার মানুষের পছন্দের তালিকায় রয়েছে মনোহরদীর পান। মনোহরদীর পান বিক্রি হয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, অত্র উপজেলায় মোট ৩০০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতের কারণে প্রায় প্রতিটি পানের বরজে দেখা দিয়েছে একই সমস্যা। পানের পাতাগুলো হলুদ হয়ে ঝরে পড়ে যাচ্ছে। অনেক পানের গাছ প্রায় পানশূন্য হয়ে গেছে।
কৃষকরা জানান, প্রতিদিন সকালে গিয়ে দেখেন হলুদ পান পাতাগুলো ঝরে মাটিতে পড়ে আছে। ঝরা পাতাগুলো দৈনিক সংগ্রহ করে তাদেরকে বরজ পরিষ্কার করতে হচ্ছে। তবে সংগ্রহ করা ঝরা পানগুলো থেকে কিছু পান তারা বেছে বেছে বাজারে বিক্রীও করতে পারছেন। এ দিকে শীতের কারণে পান ঝরে যাওয়ায় বাজারে আগের মতো পান সরবরাহ হচ্ছে না; যে কারণে দিন দিন পানের দাম বেড়েই চলছে।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন পানের বরজ পরিদর্শন করে দেখা গেছে, পানের বরজের সবুজ পানগুলোর মধ্যে কিছু পান সবুজ আবার কিছু পান হলুদ। অনেক পান পড়ে আছে বরজের মাটিতে। এতে যেসব কৃষক কেবল পান চাষের ওপর নির্ভরশীল এবং বিভিন্নভাবে ঋণ করে বরজের পরিচর্যা করেছেন, তারা মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন।
মনোহরদী পৌরসভাধীন হাররদিয়া গ্রামের পানচাষি মাছুম মিয়া জানান, প্রতি শীতেই এভাবে পান হলুদ হয়ে ঝরে যায়। এতে আমাদের ক্ষতির মধ্যে পড়তে হয়। আশা করছি শীতের শেষে বৃষ্টি হলে এ সমস্যা আর থাকবে না।
খিদিরপুর গ্রামের পান চাষি জজ মিয়া জানান, শীতের শুরু থেকেই বরজের পান হলুদ হয়ে আসছে। কোনো প্রকার ওষুধে এর সমাধান হচ্ছে না। তবে উপজেলা কৃষি বিভাগ আমাদেরকে এ বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছে।