কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে স্বাস্থ্যসচিব আবদুল মান্নানের গ্রামের বাড়ি পাশে ক্লিনিক ও রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে এসিল্যান্ডের উপর হামলা ও স্বাস্থ্যসচিবকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল উচ্ছৃঙ্খল লোকজন। শনিবার দুপুরে উপজেলার পূর্ব চান্দপুর গ্রামে লাঠিসোটা নিয়ে একদল লোক এই হামলা চালায়। হামলার সময় স্বাস্থ্যসচিব নির্মাণাধীন ক্লিনিকের পাশে উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম। আহত আশরাফুল আলমকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসচিবের গ্রামের বাড়িতে তার পরলোকগত স্ত্রীর নামে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের কাজ চলছিল। নির্মাণাধীন কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে এলাকাবাসী জানান।
স্বাস্থ্যসচিব আবদুল মান্নান শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে আসেন। শনিবার বেলা ১১টার দিকে সচিব বাড়ির পাশে নির্মাণাধীন ক্লিনিকের কাজ দেখতে যান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. মজিবুর রহমান, কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. আশরাফুল আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. নাজমুস সালেহীন। ওই সময় ৩০ থেকে ৪০ জন লোক লাঠিসোটা নিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বলে। এমতাবস্থায় সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. আশরাফুল আলম আগত লোকজনের সামনে গিয়ে তাদেরকে থামাতে চাইলে উচ্ছঙ্খল জনতা তার উপর হামলা চালালে তার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি পানিতে পড়ে যায় এবং বাম পায়ের হাঁটুর নিচে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং স্বাস্থ্যসচিবকে অবরুদ্ধ করে রাখে তারা। এসময় সিভিল সার্জন ডা. মো. মজিবুর রহমান দৌড়ে অনত্র্য চলে যান ও ক্লিনিক নির্মাণ কাজের শ্রমিকদেরকে ও মারপিট করা হয়।
স্বাস্থ্যসচিবকে তার পরিবারের লোকজন বাড়িতে নিয়ে যান। এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. শামীম আলম, পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ, কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. আকতারুন নেছা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোনাফর আলী, কটিয়াদী মডেল থানার ওসি এম এ জলিল, ওসি তদন্ত মো. শফিকুল ইসলাম, র্যাব, ডিবির লোকজন উপস্থিত হন। বিকাল ৪টা পর পুলিশ পাহারায় স্বাস্থ্যসচিব আব্দুল মান্নান ঢাকায় চলে যান।
স্বাস্থ্যসচিব আব্দুল মান্নান জানান আমার স্ত্রীর নামে নির্মাণাধীন কমিউনিটি ক্লিনিক ও তার পাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছিল। আজ শনিবার দুপুরের কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক লাঠিসোটা নিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বলেন । এ নির্দেশ সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ দিয়েছেন বলে তারা জানান। এসময় তারা এসিল্যান্ড ও নির্মাণশ্রমিকদের উপর হামলা এবং শ্রমিকদের থাকার ঘর ভাংচুর করে।



