কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে স্বাস্থ্যসচিব আব্দুল মান্নানের গ্রামের বাড়ির কাছে ক্লিনিক ও রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া রোববার উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মামলা প্রত্যাহার ও আটককৃতদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। এ দিকে ওই ঘটনায় রোববার দুপুরে কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম এ জলিলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার ওপর হামলা, নব-নির্মিত ক্লিনিক ও শ্রমিকদের থাকার অস্থায়ী টিনসেড ঘর ভাংচুরের ঘটনায় কটিয়াদী মডেল থানায় দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনার জের ধরে চারজনকে আটক করা হয়। এ দিকে মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দবিতে কটিয়াদী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা রোববার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। বিক্ষোভ মিছিলটি কটিয়াদী সরকারি কলেজের সামনে থেকে শুরু হয়ে উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে প্রতিবাদ সমাবেশ করে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কটিয়াদী উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট দিলীপ কুমার ঘোষ, কটিয়াদী কলেজের সাবেক ভিপি সিদ্দিকুর রহমান ভুইয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন মিলন ও গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ, আওয়ামী লীগ নেতা ড: জায়েদ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, সাবেক ভিপি দুলাল বর্মণ, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার আহম্মদ পাভেল ও নজরুল ইসলাম ফকির।
এর আগে শনিবার হামলা ও ভাংচুরের সময় আহত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম ও স্বাস্থ্যসেবা প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আতিকুর রহমান কটিয়াদী মডেল থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন। কটিয়াদী মডেল থানায় মামলা নম্বর ছয় ও সাত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্যসেবা সচিব আবুল মান্নানের গ্রামের বাড়ির পাশে ক্লিনিক ও রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে এসিল্যান্ডের ওপর হামলা ও স্বাস্থ্যসচিবকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয় কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোকজন। উপজেলার পূর্ব চান্দপুর গ্রামে লাঠি-সোটা নিয়ে তারা সেখানে হামলা চালান। হামলার সময় স্বাস্থ্যসচিব নির্মাণাধীন ক্লিনিকের পাশে উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম।
স্বাস্থ্যসচিবের গ্রামের বাড়িতে তার মরহুম স্ত্রীর নামে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের কাজ চলছিল। নির্মাণাধীন কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশে দিয়ে রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হামলা ও ভাংচুরের সূত্রপাত বলে এলাকাবাসী জানান।



