নরসিংদীর মনোহরদীতে স্ত্রীর সাথে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক যুবক। সোমবার দুপুরে উপজেলার শুকুন্দী ইউনিয়নের রামচন্দ্রদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।নিহতের নাম আমির হোসেন (১৯)। তিনি ওই গ্রামের সামসুল হকের ছেলে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের ঈমান আলীর মেয়ে রূপার (১৮) সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল আমির হোসেনের। প্রায় এক বছর আগে দু’জনই বাবা-মায়ের অমতে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরে দুই পরিবার উপস্থিতিতে সালিশ হয়। এতে ছেলে-মেয়ের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে তাদের বিয়ে দেয়া হয়। কিন্ত মেয়ে পক্ষের অভিভাবক মেনে নিতে পারেননি এ বিয়ে। তাই দু’জনই গাজীপুরের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। গাজীপুর থাকার সময় আমির হোসেন সেখানকার একটি মিলে চাকরি করতেন। প্রায় ছয় মাস আগে রূপা গাজীপুর থেকে তার শ্বশুর বাড়িতে চলে আসেন। ঘটনার আট দিন আগে রূপা তার বাবার বাড়িতে যান।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, গত শুক্রবার আমির হোসেন গাজীপুর থেকে তার নিজ বাড়িতে আসেন। এ সময় তার স্ত্রীর সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মান অভিমান হয় এবং নিজ ঘরে শুয়ে থাকেন। সোমবার দুপুরের দিকে আমির হোসেনের পরিবারের লোকজন তার কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে ঘরে গিয়ে ভেতর থেকে দরজা লাগানো দেখতে পায়। পরে স্টিলের দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে ঘরের সিলিং ফ্যানে আমির হোসনকে ঝুলে থাকতে দেখে। উপস্থিত লোকজন আমির হোসেন বেঁচে আছে ভেবে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে দেখতে পায় তিনি মৃত। পরে মনোহরদী থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মনোহরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।