ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিপুল পরিমান পেঁয়াজ মাঠ থেকে বাড়িতে এনে স্তুপ করে রাখছেন কৃষকরা। কিন্তু, পেঁয়াজ সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অল্প টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হন উপজেলার কৃষকরা। স্থানীয়রা বলছেন, এ উপজেলায় পেঁয়াজের প্রচুর চাষ হয়ে থাকে। সবচেয়ে বেশি চাষ হয় পাইকপাড়া গ্রামে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘শৈলকুপা উপজেলায় চাষযোগ্য জমি আছে ২৮ হাজার ৫ শ’ হেক্টর। তার মধ্যে এ বছর পেঁয়াজের চাষ হয়েছে ৭ হাজার ৮শ’ ৯০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে শুধু পাইকপাড়া গ্রামে চাষ হয়েছে ৩৫০ হেক্টর জমিতে। বারি-১, লাল তীর, লাল তীর কিংসহ বেশ কয়েকটি জাতের পেঁয়াজ বেশি চাষ হচ্ছে। এ বছর অনেক কৃষক সুখসাগর জাতও চাষ করেছেন।’
পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির বাইরে মেয়েরা পেঁয়াজ থেকে গাছ কেটে আলাদা করছেন। বাড়ির মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পেঁয়াজ। ঘর-বারান্দা কোথাও খালি জায়গা নেই। শোবার ঘরের খাটের নিচেও পেঁয়াজ।
তিনি জানান, ‘এ বছর আট বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছেন তিনি। এসব জমিতে চাষ করেছেন হাইব্রীড লাল তীর কিং জাত। যার মধ্যে অর্ধেক জমির পেঁয়াজ বাড়িতে নিয়ে এসেছেন। এখনো মাঠে পেঁয়াজ রয়েছে।’
তিনি আরো জানান, ‘প্রতি বিঘায় সব মিলিয়ে ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এক বিঘায় (৪০ শতাংশ) ১ শ’ ২০ মণ পেঁয়াজ পাচ্ছেন। যা ১৪ শ’ টাকা প্রতি মণ দরে বিক্রি করে ১ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা ঘরে আসবে।’
চর সোন্দহ গ্রামের কৃষক আমিরুল ইসলাম জানান, ‘তিনিও তার জমিতে এ পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ক্ষেত থেকে ৬ শ’ মণ পেঁয়াজ পাবেন বলে তিনি আশা করছেন।’
আমিরুল ইসলাম আরো জানান, ‘সরকারিভাবে এ উপজেলায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। যে কারণে কৃষকরা পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারেন না। তাই অনেক সময় সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।’
শৈলকুপার পেঁয়াজ ব্যাবসায়ী রেজাউল বিশ্বাস জানান, ‘শৈলকুপা বাজার থেকে ঢাকার কারওয়ান বাজার, ভৈরব, সিলেট, চট্রগাম, খুলনা, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পেঁয়াজ যায়। দেশের চাহিদার বড় একটি অংশের যোগান শৈলকুপা থেকে হয়ে থাকে।’
পাইকপাড়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কোরবান আলী জানান, ‘এ ব্লকে সাত হাজার হেক্টর চাষযোগ্য জমি আছে। আর ১ হাজার ৫৬০টি কৃষি পরিবার রয়েছে। এ বছর সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। কম-বেশি প্রায় সব পরিবারে রয়েছে পেঁয়াজ। চাষটি ক্রমেই বাড়ছে বলে তিনি জানান।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আক্রাম হোসেন জানান, ‘এ উপজেলায় পেঁয়াজের চাষ বাড়ছে। গত ১০ বছরে এ চাষ বেড়েছে। এবার উপজেলায় পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। তবে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কম। এখানে একটি কোল্ড স্টোর জরুরি। তাহলে কৃষকরা পেঁয়াজের ভালো দাম পাবেন।’



