রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ৯ নম্বর কান্দি ইউনিয়নের পাঠক শিখড় গ্রামের নুরুন্নবী সরকারের ছেলে কৃষক সাইদুল ইসলাম রয়েল মিয়া করোনাভাইরাসের ব্যাপকতার সময় অভাবের কারণে সুদের ওপর টাকা নিতে বাধ্য হন। এক সময় তিনি শুধুমাত্র সুদের টাকার সুদ দিতে দিতে বিভিন্ন স্থান থেকে আরো সুদে টাকা নিতে বাধ্য হন। বর্তমানে তার অবস্থা এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে সুদখোরদের ভয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
জানা গেছে, রয়েল মিয়াকে স্থানীয় সুদখোররা বিভিন্ন সময় সুদের টাকার জন্য বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভয়ভীতি দেখানো ছাড়াও রাস্তাঘাটে বিভিন্ন সময় অপমান লাঞ্ছিত করে। এতে বাধ্য হয়ে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। রয়েল মিয়া বলেন, আমি সুদের সব টাকা পরিশোধ করতে চাই, তবে আমাকে সময় দিতে হবে। সুদখোররা সবসময় আমাকে সুদের টাকার জন্য উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। এখন আমি কী করব বুঝতে পারছি না। আমি সুদের টাকা পরিশোধ করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু এখন করার মতো আমার আর কিছুই নেই। তিনি বলেন, আমি শুধুমাত্র আসল টাকা শোধ করতে চাই। তবে যদি সুদখোররা আমাকে সময় দেয় তাহলে আমি ক্রমান্বয়ে সবার টাকা পরিশোধ করব।
তিনি বলেন, আমি এলাকায় থেকে কাজ করে সুদের আসল টাকা শোধ করতে চাই, আমি যদি পালিয়ে থাকি তাহলে আমি সুদের টাকা পরিশোধ করব কিভাবে? বর্তমানে আমি সুদের টাকার সুদ দিতে দিতে পঙ্গু হয়ে গেছি। এক শ’ টাকার জন্য আমাকে মাসিক ১০-২০ টাকা হারে সুদ দিতে হয়। করোনাভাইরাসের ব্যাপকতার সময় আমার সুদের টাকার ওপর সুদ যোগ করার কারণে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ টাকা হয়েছে। অথচ আমি নিয়েছিলাম খুব কম টাকা। তিনি বলেন, সুদের ওপর টাকা নেয়ার সময় আমার কাছ থেকে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছেন সুদখোররা। তারা এসব ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার কারণে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।



