বরগুনার তালতলীতে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের স্থানীয় সাংবাদিকরা। একই সাথে তারা অভিযুক্ত স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী আহাম্মদ আলী ও তার সহকারী শাকিল আহমেদকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
তালতলী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও দৈনিক নয়া দিগন্তের সংবাদদাতা ইউসুফ আলী ও দৈনিক অধিকারের প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেনের ওপর হামলায় শুক্রবার বেলা ১১টায় উপজেলার উজ্জ্বল চত্বরে তালতলী সাংবাদিক ইউনিয়নের ব্যানারে মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
ওই দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার পর তাদেরকে আটকের আল্টিমেটাম দেন সাংবাদিকরা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও পুলিশ এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বাধ্য হয়ে সাংবাদিকরা আন্দোলন শুরু করেছেন।
বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক আরিফুর রহমান বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের খবর সংগ্রহকালে দেশব্যাপী সাংবাদিকরা হামলার শিকার হচ্ছেন। তালতলীতে এলজিইডির প্রকৌশলী আহাম্মদ আলীকে প্রতিটি কাজে ১০% করে দিতে হয় ঠিকাদারদের। সকল কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। কিন্তু সাংবাদিকরা এ দফতরে তথ্য চাইতে গেলে উল্টা তাদেরকে লাঞ্ছিত করা হয়। আমরা দ্রুত প্রকৌশলী আহাম্মদ আলীও সহকারীর অপসারণ এবং গ্রেফতার দাবি করছি।
মাববন্ধনে বক্তারা হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থাগ্রহণে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।
উল্লেখ্য, তালতলী উপজেলার কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝাড়াখালী গ্রামে একটি কালভার্ট ও সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে তালতলী এলজিইডির অফিসে গত ৯ মার্চ তথ্য সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিকরা। ওই সময় প্রকৌশলী আহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের সাথে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান ও তার সহকারীকে কালভার্টের নির্মাণকাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের চায়ের দাওয়াত দিয়ে বলেন, ‘এ মুহূর্তে অফিসে আমার সহকারী নেই, আপনারা বৃহস্পতিবার আসেন।’ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকরা প্রকৌশলী আহাম্মদ আলীর অফিস কক্ষে তালাবদ্ধ দেখতে পান। এ সময় অফিসের পিয়ন শাকিল অহেতুক সাংবাদিকদের সাথে বাক-বিতণ্ডা করেন। একপর্যায়ে অফিসের এক কর্মচারী শাকিলকে শান্ত করে সাংবাদিকদের চা খাওয়ার কথা বলে পাশের একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। কক্ষে ঢুকেই সাংবাদিক শাহাদাতকে জামার কলার ধরে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে মোবাইল ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন শাকিল।
পরে সাংবাদিক শাহাদাতের চিৎকারে সাংবাদিক ইউছুফ এগিয়ে গেলে তাকেও কিল ঘুষি দিয়ে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কক্ষটিতে তালা দিয়ে তাদেরকে অটকে রাখার চেষ্টা করা হয়।
এ নিয়ে হট্টগোল শুনে আরো কয়েকজন সাংবাদিক ও স্থানীয় লোকজন উপস্থিত হন। তখন শাকিল কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। পরে ওই দুই সাংবাদিক তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) বিষয়টি অবহিত ও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এ ব্যপারে তালতলী থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘এলজিইডির থানা ইঞ্জিনিয়ারও রাতে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। আমরা উভয়পক্ষের জিডি এন্ট্রি কোর্টে পাঠিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ মোতাবেক ব্যবস্থা নেব।’



