কারিগরি ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের অনলাইন ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া আবার শুরু হচ্ছে। তবে সার্ভার পুরোপুরি সচল না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কাটছে না।
গত বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১টা থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল ঢাবির ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া। অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এসব তথ্য জানান। তবে শিক্ষার্থীরা বলছে সোমবার সকাল থেকে আবেদন করা গেলেও রোল, রেজিস্ট্রেশন দেয়ার পরেও লগ ইন হচ্ছে না, পেমেন্ট নিচ্ছে না, লগইন করলে আবার পেমেন্ট স্লিপে ছবি আসছে না বা অন্য কোনো তথ্য ভুল আসছে বা কিছুই আসছেই না। ঠিকানার জায়গায় ঠিকানাও ঠিকমতো দেয়া যাচ্ছে না। ঢাকা কমার্স কলেজ থেকে সদ্য এইচএসসি পাস করা রবিউল্লাহ নীরব বলেন, আবেদন করার সময় লগ-ইন হচ্ছিল না পরে অনেক কষ্ট করে আবেদন করলেও ছবিটা আসেনি, এ নিয়ে চিন্তিত আছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান পরে ঠিক করে দিবে কিন্তু চিন্তা তো থেকেই যায়। ভোগান্তির শিকার হওয়া আরেক শিক্ষার্থী জানান, সার্ভার সমস্যার কারণে জেন্ডার মেইল থেকে ফিমেইল হয়ে আছে। সার্ভার সমস্যা কাটিয়ে পুনরায় শুরু হলেও এর সমাধান করা যাচ্ছে না।
অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়া পুনরায় সচল করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এখন আবেদন করতে পারছে। এবার আগের চেয়ে অনেক গুণ বেশি আবেদন পড়েছে। ওয়েবসাইটের সক্ষমতা বাড়াতে আমরা আরো কাজ করছি। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আপাতত শিক্ষার্থীরা যাতে আবেদন করতে পারে সে ব্যবস্থা করেছি, ছবি সংক্রান্ত, পাসওয়ার্ড সংক্রান্ত সমস্যাগুলো আসবে আমরা জানি। এ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগবে সমস্যাগুলো সমাধান করতে। এরপর আশা করি আর সমস্যা হবে না। আর যে সমস্যাগুলো হচ্ছে সেগুলো পরে সংশোধন করা যাবে। আবেদনের সময় বাড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের হাতে প্রচুর সময় রয়েছে। যে সময়টা নষ্ট হয়েছে আমরা এপ্রিল মাসে সেটা পুষিয়ে নিব অর্থাৎ সময় বাড়িয়ে দিব। সে সাথে কোনো শিক্ষার্থীর আবেদনে কোনো সমস্যা হলে বা ভুল থাকলে সেটাও সংশোধন করে নিতে পারবে।
গত ৮ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অনলাইন আবেদনপ্রক্রিয়া উদ্বোধন করেন ভিসি মো: আখতারুজ্জামান। আবেদন শুরুর দিন রাতে কারিগরি জটিলতায় ভর্তির ওয়েবসাইটটি বন্ধ রাখা হয়। পর দিন ৯ মার্চ সকালে সচল হলেও বেশ কয়েকবার সার্ভার ডাউন দেখা যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থীরা। এরপর তিন দিন বন্ধ রেখে নতুন দু’টি সার্ভার যুক্ত করে ওয়েবসাইটের সক্ষমতা বাড়িয়েছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।
আগামী ২১ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ক ইউনিট, ২২ মে কলা অনুষদভুক্ত খ ইউনিট, ২৭ মে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত গ ইউনিট, ২৮ মে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ঘ ইউনিট ও ৫ জুন চারুকলা অনুষদভুক্ত চ ইউনিটের বহুনির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আর অঙ্কন পরীক্ষা হবে ১৯ জুন। প্রতিটি ইউনিটের পরীক্ষা বেলা ১১টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
ক, খ, গ ও ঘ ইউনিটে মোট ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা হবে। এ ক্ষেত্রে ৬০ নম্বরের বহুনির্বাচনী ও ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। উত্তর দেয়ার জন্য ৪৫ মিনিট করে সময় থাকবে। চ ইউনিটে ৪০ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষা হবে। সময় ৩০ মিনিট। এর ফলাফলের ভিত্তিতে পরে মেধাক্রম অনুযায়ী ১ হাজার ৫০০ জন ৬০ নম্বরের অঙ্কন পরীক্ষায় অংশ নেবেন। অঙ্কন পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে। পাঁচটি ইউনিটেই প্রাপ্ত নম্বরের সাথে এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএর ওপর ১০ করে মোট ২০ নম্বর যোগ করে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে।